বাংলার ভোর প্রতিবেদক
স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী সন্তানকে হারানো বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ৬ মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। তবে আদেশের চিঠি কারাগারে না পৌঁছানোতে এদিন মুক্তি মিলছে না সাদ্দামের। মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ মুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন কারা কর্তৃপক্ষ। আর মুক্তি নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই সাজানো সংসার ভাঙ্গা সাদ্দামের পরিবারের।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর আবিদ আহম্মেদ জানান, ‘আমরা শুনেছি সাদ্দামের জামিন হয়েছে। তবে আদালতের কোন নথি আমাদের কাছে আসেনি। আজ না আসার সম্ভবনাও বেশি। কাল দুপুর নাগাদ জামিন হতে পারে বলে ধারণা করছি।’ সাদ্দামের ভাই প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘ছয় মাসের জামিন হয়েছে, সাদ্দামের আইনজীবী আমাদের জানিয়েছে। তবে এখন জামিন দিয়ে কি লাভ! জামিন নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই আমাদের। ক্ষোভের স্বরে তিনি বলছিলেন, বাগেরহাটে একবার জামিন দিয়েও সাদ্দামকে জেল গেট থেকে আবারও আটক করে পুলিশ।

তার জামিন দিয়ে আর কি হবে। সে তো আর তার সন্তান-স্ত্রীকে পাবে না। সে তো সন্ত্রাসী না। এমন তো না যে, বাগেরহাটে জুলাই আন্দোলনে বড় কোন সহিংসতা হয়েছে। সে যে মামলায় আটক হয়; সে ওই ঘটনায় জড়িতও না। তবে সাদ্দামের এই জামিন নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান শহিদুল। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে গণমাধ্যম পাশে ছিলো বলেই তার জামিন হয়েছে।’

আদালতে সাদ্দামের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “মানবিক দিক বিবেচনা করে আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন।” বর্তমানে তিনি একাধিক মামলায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি প্যারোল না পাওয়ায় সাদ্দামের মৃত স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে নিয়ে যাওয়া হয়।

কারা কর্তৃপক্ষের মানবিক অনুমতিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলগেটের ভেতরে মাত্র ৫ মিনিটের জন্য সাদ্দামকে তার স্ত্রী কানিজ স্বর্ণালী ও ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান নাজিমের মরদেহ দেখার সুযোগ দেয়া হয়। গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাটের বেখেডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়ি থেকে তার স্ত্রী স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং পাশে ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, বিষন্নতা থেকে সন্তানকে হত্যার পর স্বর্ণালী আত্মহত্যা করেছেন। সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দিয়ে জেলগেটে মরদেহ দেখানোর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। এরপর থেকেই তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।

Share.
Exit mobile version