কাজী নূর :
‘হরেক সবজির পসরা সাজিয়ে চুপচাপ বসে আছি বেচাকেনা নেই। ঈদের পর ৮ দিন পার হলেও বাজার জমে ওঠেনি। শুক্রবার ছুটির দিন ভেবে আড়ৎ থেকে অনেক মাল বাকিতে নিয়েছি। সন্ধ্যা নাগাদ বাকি টাকা শোধ দিতে হবে।’ দৈনিক ‘বাংলার ভোর’ প্রতিবেদকের কাছে হতাশা প্রকাশ করে এসব কথা বলেন সবজি বিক্রেতা মারুফ হাসান।’
একই রকমভাবে গরুর মাংসের দোকানেও ক্রেতা শূন্য পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিসমিল্লাহ বিফ হাউজের স্বত্বাধিকারী জিনদার আলী বলেন, ‘ভাই বেচাকেনা হবে না, জেনেও দোকান খুলেছি। কারণ দোকান ভাড়া, কর্মচারী বেতন তো দিতে হবে। অল্প বেচাকেনা করে যেটুকু এগোয় সেটাই লাভ।’
সাব্বির বিফ হাউজের ম্যানেজার সৈয়দ আকরামুল হাসান বলেন, মোট বেচাকেনার ৫ ভাগের ৪ ভাগ নেই। সপ্তাহ দুয়েক পরে বিক্রি বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ঈদ পরবর্তী এমন ক্রেতাশূন্য বাজারে সবজি-মুরগি-ডিমের দাম তুলনামূলক কম থাকলেও অপরবির্তিত রয়েছে মুদি পণ্য ও চালের বাজার। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ মাছের দাম বেশি। শুক্রবার সকালে যশোর বড়বাজার ও কাঠেরপুল বাবুঘাট মাংসের বাজারে সরেজমিন ঘুরে মিলেছে এসব তথ্য।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে মানভেদে কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ১৫ থেকে ৩০ টাকা, ডাটা ২০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ো ৪০ টাকা, কচুরমুখি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর লতি ৪০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, সজনে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, ঢেরস ২০ টাকা, শসা ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, উচ্ছে ৬০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা কলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ধুন্দল ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পুঁইশাক ১৫ থেকে ২৫ টাকা, লাউশাক ৩০ টাকা, সবুজ শাক ৩০ টাকা, কুশি ৪০ টাকা, ঝিঙে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বিটরুট ১২০ টাকা, ফুলকপি ১০০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা ও মুলো ৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
এছাড়া লাউ ও চাল কুমড়ো আকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস বিক্রি হয়েছে।
বিক্রেতা দুলাল পাল বলেন, দাম কম আছে কিন্তু সবজির বিক্রি নেই। আজ শুক্রবার হলেও বাজার ফাঁকা।
শহরের ঘোপ থেকে আসা এল, কে হোসেন সজিব বলেন, ঈদের পর থেকে বাসায় মাংস চলছে। রুচির পরিবর্তন করতে আজ সবজি কিনতে বাজারে এসেছি। বাজারে আজ সবজি সস্তা।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ৩ কেজি সাইজের রুই মাছ ৪৫০ টাকা, সাড়ে ৩ কেজি সাইজের কাতলা ৪২০ টাকা, বাটা ১৭০ থেকে ২৫০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা, পারশে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, টেংরা ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা, বেলে ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা, শোল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, হরিণা চিংড়ি ৯০০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, মায়া ৩০০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা ও নাইলোটিকা ২৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
বিক্রেতা শিবায়ন রায় বলেন, বাজারে আজ পর্যাপ্ত সরবরাহ কিন্তু বেচাকেনা নেই। দোকান খরচ ওঠানো মুশকিল।
শহরের হাজী আব্দুল করিম লেন চুড়িপট্টির বাসিন্দা শেখ রোমান বলেন, আজ মাছের দাম বেশি। তাই মুরগি নিয়ে ঘরে ফিরবো।
এদিকে ইলিশ মাছ বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়েছে। ৮০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ ২৬০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম সাইজের ২৩০০ টাকা ও ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ ১৫০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
ইলিশ বিক্রেতা এরশাদ আলী বলেন, বাজারে ইলিশের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় নগণ্য। দাম বেশি হবার কারনে বিক্রি কম। এ নিয়ে বিপদে আছি। মধ্য জুনের পর থেকে ইলিশের সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম কমতে পারে।
মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্রয়লার জাতের মুরগি কেজি প্রতি ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি ২৯০ থেকে ৩২০ টাকা ও লেয়ার ৪০০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম মিলন বলেন, মুরগির দাম বেশ কমতির দিকে। গরমে মুরগি মারা যাচ্ছে। যা খামারিদের জন্য অশনিসংকেত। খামারি না বাঁচলে এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মুদিপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল কেজি প্রতি ২০৪ থেকে ২০৬ টাকা, সরিষার তেল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, পাম তেল থেকে ১৮০ থেকে ১৮২ টাকা, পোলাও চাল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, আটা ৪২ থেকে ৪৫ টাকা, ময়দা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, মসুরি ডাল ৯০ থেকে ১৫০ টাকা, মুগ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, ছোলার ডাল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, সাদা চিনি ১০৫ টাকা, লাল চিনি ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এছাড়া আলু ২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, আদা ২০০ টাকা ও রসুন ৮০ থেকে ১০০ থেকে টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
মুদিপণ্য বিক্রেতা হিমু স্টোরের স্বত্বাধিকারী গোপাল চন্দ্র ঘোষ বলেন, বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। আপাতত বাজার অস্থিতিশীল হবার কোন আশংকা নেই।
চালের বাজার চাল চান্নী ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতাদের অনেকে মুঠোফোন আর পত্রিকা পড়ে অলস সময় পার করছেন।
চাল বিক্রেতা মেসার্স চয়ন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী চিত্ত রঞ্জন পাল বলেন, দেখছেন তো চান্নী পুরাই ফাঁকা। শুক্রবার ছুটির দিনে বাজারের চিত্র এমনটি হবার কথা নয়।
চিত্ত রঞ্জন পালের দেয়া তথ্য ও চাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে বাসমতি চাল কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সুপার মিনিকেট ৬০ থেকে ৬২ টাকা, মিনিকেট ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, কাজল লতা ৫২ টাকা, নাজির শাইল ৮৫ থেকে ৮৮ টাক, স্বর্ণা ৫২ টাকা, সুবর্ণলতা ৪৬ থেকে ৫০ টাকা, আটাশ ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, মোটা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, বিল আমন ৬০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
ডিমের বাজার ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে লাল ডিম ৩৮ থেকে ৪৪ টাকা, সাদা ডিম ৩৬ থেকে ৪০ টাকা হালি বিক্রি হয়েছে। বিক্রেতা কুদ্দুস আলী বলেন, ঈদের পর ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। আরো একটু কমার সম্ভাবনা আছে।
