পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দশকের দ্বিতীয় দিন আজ। আর মাত্র ৭-৮ দিন রোজা আছে। বাকি দিনগুলোতে তাই ভুলে বা নিয়ম না মানার কারণে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রত্যাশিতভাবে রোজা পালন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়তে পারে। এ অবস্থায় আগামী দিনগুলোতে কিভাবে নিজেকে সুস্থ রেখে রোজা থাকবেন সে বিষয়ে রোজাদারদের সচেতন করতে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল ঢাকার ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. নূর-এ-খুদার সাথে কথা বলে লিখেছেন
কাজী নূর।
ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহ পানাহার, স্ত্রী সহবাস ও সকল অসংযম থেকে বিরত থাকার নাম রোজা। পুরো রমজানজুড়ে সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকতে হলে পবিত্র এ মাসে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন জরুরি। আসুন জেনে নেয়া যাক বিস্তারিত।
রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা ও রক্তের লবণে ভারসাম্যের পরিবর্তন হতে পারে। এজন্য হৃদরোগীদের বাড়তি সতর্কতা জরুরি। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়ম মেনে চললে হৃদরোগীরাও নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন।
১। সেহরি ও ইফতারের পরিমিত খাদ্যতালিকা হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে সহায়ক।
ভাজাপোড়া (ট্রান্সফ্যাট) বর্জন : ইফতারে বেগুনি, পেঁয়াজু বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার রক্তচাপ বাড়াতে পারে। এর পরিবর্তে সেদ্ধ বা গ্রিল করা খাবার বেছে নিন।
লবণ নিয়ন্ত্রণ : খাবারে অতিরিক্ত কাঁচা লবণ বা লবণাক্ত খাবার (যেমন-আচার, চিপস) পরিহার করুন। লবণ শরীরে পানি জমিয়ে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
আঁশযুক্ত খাবার : সেহরিতে লাল চালের ভাত, ওটস বা শাকসবজি, ফল খান। যা দীর্ঘক্ষণ শক্তি ধরে রাখে।
চিনিযুক্ত পানীয় : প্যাকেটজাত জুস বা মিষ্টি শরবতের বদলে ডাবের পানি বা সাধারণ পানি পান করুন।
২। পানিশূন্যতা রোধে করণীয়
রোজা অবস্থায় যথাসম্ভব ঘরের বাইরে কম সময় থাকা। রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহার করা। ইফতারে একবারে অনেক পানি পান করা যাবে না। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত বিরতি দিয়ে পর্যাপ্ত পানি পান করুন (কমপক্ষে ২ থেকে ২.৫ লিটার)। তবে হার্ট ফেইলিউর আছে এমন রোগীদের পানির পরিমাণ চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে ঠিক করতে হবে।
কফি বা চা পান সীমিত রাখুন। কারণ, এগুলো প্রস্রাবের মাত্রা বাড়িয়ে শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে ফেলে।
৩। ওষুধের সমন্বয় (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
রোজার সময় ওষুধের সময়সূচি নিজে নিজে পরিবর্তন করবেন না।
চিকিৎসকের পরামর্শ : রোজা শুরুর আগেই আপনার কার্ডিওলজিস্টের সঙ্গে কথা বলে ওষুধের ডোজ সমন্বয় করে নিন।
ওষুধের সময় : সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি কাজ করে এমন ওষুধ সেহরি বা ইফতারে একবার সেবনের জন্য নির্ধারণ করা হয়।
নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে : যদি বুকে ব্যথা অনুভব করেন, তবে রোজা থাকা অবস্থায়ও জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
৪। শরীরচর্চা ও বিশ্রাম : রোজা অবস্থায় ব্যায়াম না করাই ভালো। প্রয়োজনে রাতে ব্যায়াম করা যেতে পারে। ইফতারের পর হালকা হাঁটাচলা করা যেতে পারে।
তারাবির নামাজ হৃদরোগীদের জন্য একটি ভালো শারীরিক কসরত হিসেবে কাজ করে। তবে খুব ক্লান্ত বোধ করলে বিশ্রাম নিন।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
যদি রোজা রাখা অবস্থায় নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত রোজা ভেঙে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন-
বুকে তীব্র ব্যথা বা চাপ অনুভব করা। অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হওয়া। প্রচণ্ড দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা। অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা পালস কমে যাওয়া।
যাদের সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, হার্ট ফেইলিউর আছে অথবা হার্টে রিং পরানো হয়েছে খুব অল্প সময় আগে, তাদের রোজা রাখার ব্যাপারে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুমতি নেয়া জরুরি।
