বাংলার ভোর প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৭ এপ্রিল যশোর সফরে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার যশোরে প্রথম আগমন হওয়ায় জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি প্রশাসনিক তৎপরতা বেড়েছে বহুগুণ। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সন্ধ্যায় তিনি ঢাকায় ফিরে যাবেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিমানে যশোরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি সরাসরি শার্শার উলাশী খাল এলাকায় যাবেন। সেখানে তিনি ঐতিহাসিক উলাশী খালের পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এরপর যশোরে ফিরে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্বোধন, যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন এবং বিকেলে ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ ময়দানে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করবেন। এর মধ্যে যশোর সার্কিট হাউজে বিশ্রামে থাকবেন তিনি।
ঐতিহাসিক উলাশী খালটি ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। ওই সময় দেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উন্নয়নে খাল খনন একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে সারাদেশে এ কর্মসূচি সম্প্রসারিত হলেও দীর্ঘদিন অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উলাশী খালটি ধীরে ধীরে মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে এবং পানি সংরক্ষণের উপযোগিতা হারায়। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকার খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা স্থানীয় কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী যশোর বিমানবন্দর থেকে শার্শার উলাশী পর্যন্ত বাসযোগে যাতায়াত করবেন। শুধু তাই নয়, যশোর শহরের অন্যান্য কর্মসূচিতেও তিনি বাস ব্যবহার করবেন। যা সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সরাসরি সংযোগের একটি বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ প্রস্তুতি সভায় পরিণত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসান।
জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যশোর সফর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সফরের মাধ্যমে যশোরকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি রাখা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের প্রতিটি রুট দখলমুক্ত রাখতে হবে এবং যানজটমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট অপসারণে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরের ভেতরে প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের জন্য বিকল্প দুটি রুট প্রস্তুত রাখা হবে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সকল প্রোগ্রামে জেনারেটর মেইন পাওয়ার হিসেবে থাকবে। বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে।
ডিসি আরও নির্দেশনা দেন, উলাশী খাল এলাকায় উন্নত সাউন্ড সিস্টেম, নিরাপত্তা বেষ্টনী, সুধী সমাবেশের জন্য নির্ধারিত স্থান এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। খাল পুনঃখনন শেষে সেখানে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় জানানো হয়, ২২ এপ্রিল থেকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় এসএসএফ দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি জেলা পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে প্রায় ৬৯ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। মোট ৬টি ভেন্যুতে প্রায় ২ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ৭১টি বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। তিনি আরও বলেন, এটি একটি বড় আয়োজন। সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে যশোরের জন্য তা গর্বের বিষয় হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশ্রামের জন্য যশোর সার্কিট হাউজ প্রস্তুত রাখা হবে। যেখানে তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করতে পারেন। সেখানে তার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের ব্যবস্থা করা হবে। দেশি মাছ, দেশি মুরগি, অর্গানিক সবজি সবকিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পরিবেশন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া তার ব্যবহারের কক্ষ, ওয়াশরুমসহ সব স্থানে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে ব্যবহৃত কক্ষগুলোকেও বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হবে বলে আলোচনা হয়।
উলাশী খাল এলাকায় পুনঃখনন কার্যক্রমে ১৫০ থেকে ২০০ শ্রমিক অংশ নেবেন। নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট দূরত্বের (১০ থেকে ২০ মিটার) মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। খাল খননের উদ্বোধনী স্থানে পুরোনো ফলকের পাশে নতুন ফলক স্থাপনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
এছাড়া স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের স্মৃতিচারণের সুযোগ রাখা, সুধী সমাবেশ আয়োজন এবং উন্নত সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, যশোর পৌরসভা, যশোর মেডিকেল কলেজ, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বিদ্যুৎ, জেনারেটর, সাউন্ড সিস্টেমসহ প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামোগত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, আগামী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে জনসভাস্থলসহ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তার সফরে যশোরবাসীর জন্য নতুন উন্নয়ন বার্তা ঘোষণা করবেন।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে যশোরে একদিকে যেমন প্রশাসনিক ব্যস্ততা তুঙ্গে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা।#
