বাংলার ভোর প্রতিবেদক

রাজধানীর ওয়ারী থানার আলোচিত ৫৭ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনতাই ও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সংঘটিত ডাকাতির মামলায় যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা যুবদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গ্রেপ্তারকৃত আফজাল হোসেন বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।

রাজধানীতে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৯ সদস্যের তালিকায় আফজালের নাম উঠে আসায় বাঘারপাড়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ মে রাতে ওয়ারী থানার নবাবপুর রোড এলাকায় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও তার ম্যানেজার ব্যবসা শেষে ৫৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন।

এ সময় একদল দুর্বৃত্ত নিজেদের ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে তাদের গতিরোধ করে।

পরে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ব্যবসায়ী ও তার ম্যানেজারকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয় ডাকাতরা। তাদের চোখ-মুখ বেঁধে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার পর ঢাকার কমলাপুর এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা।

এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্তে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নামে পুলিশ।

গত শনিবার (৬ জুন) প্রথমে চক্রের কয়েকজন সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আফজাল হোসেনসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সুসংগঠিত আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ১৭ ভরি গলানো স্বর্ণ, স্বর্ণ বিক্রির নগদ ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা, একটি খেলনা পিস্তল, ‘ডিবি’ লেখা তিনটি জ্যাকেট, দুটি ওয়াকিটকি সেট, এক জোড়া হ্যান্ডকাফ, লাঠি, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস এবং মোটরসাইকেল।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Share.
Exit mobile version