বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
টানা কয়েক দিনের তীব্র তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরমের পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি পেয়েছে যশোরবাসী। শনিবার যশোরে ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে দমবন্ধ করা গরম থেকে স্বস্তি মিললেও শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গিয়ে নতুন করে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
যশোর মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটি আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত যশোরে ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিকেল ৩টার দিকে পশ্চিম আকাশে ঘন কালো মেঘ জমতে শুরু করলে অল্প সময়ের মধ্যেই শুরু হয় বর্ষণ। বৃষ্টির সঙ্গে বইতে থাকে ঝড়ো বাতাস, যা দীর্ঘদিনের দাবদাহে ক্লান্ত মানুষকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি এনে দেয়।
ভারি বর্ষণে শহরের প্রধান সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকাগুলো দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে টিভি ক্লিনিক মোড়, শংকরপুর, বেজপাড়া, খড়কিসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন উপচে পানি রাস্তাঘাট জমাট বাধে। বাসিন্দারা জানান, কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে পানি দ্রুত নামতে না পারায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অনেক পরিবারের রান্নাঘর ও বসতঘরের দরজা পর্যন্ত পানি উঠে গেছে।
শহরের ওয়াপদা গ্যারেজ মোড় এলাকার আরিফ খান বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে থেকে শুরু করে ওয়াপদা গ্যারেজ মোড় পর্যন্ত ড্রেনের ওপরে পানি উঠে যায়। পৌর কর্তৃপক্ষকে বারবার বলার পরেও এ বিষয়ে কোনো সমাধান হচ্ছে না।
বেজপাড়া এলাকার জামিল সেখ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য পৌরসভা যে ড্রেন করেছে সে ড্রেন সঠিকভাবে করতে পারেনি। পৌরসভা যদি সঠিকভাবে এ ড্রেন করত তাহলে পানি দ্রুত নদীতে গিয়ে পড়ত এবং পৌরবাসী ভোগান্তি থেকে রেহাই পেত।
শংকরপুর এলাকার আব্দুল মালেক বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তবে আজকে অল্পবৃষ্টিতে পানিতে একাকার হয়ে গেছে এলাকা।
তবে জলাবদ্ধতার ভোগান্তির মাঝেও শহরবাসীর মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। গত কয়েকদিন ধরে চলা প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ মানুষ বৃষ্টির পর ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। অনেককে বারান্দা, দোকানের ছাউনি কিংবা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি উপভোগ করতে দেখা যায়। শিশু-কিশোররা মেতে ওঠে বৃষ্টির পানিতে খেলাধুলায়।
অন্যদিকে এই বৃষ্টি কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, চলমান মৌসুমে ফসলের জন্য এই বৃষ্টি অত্যন্ত উপকারী। এতে জমির আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাবে এবং সেচের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে যাবে।
সদর উপজেলার চুড়মনকাটি গ্রামের চাষি আমিন উদ্দিন বলেন, তীব্র গরমে সবজি উৎপাদান কম হয়। তবে আজকের এ বৃষ্টি সবজি উৎপাদান বৃদ্ধি করতে সহযোগিতা করবে।
বৃষ্টি শেষে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার চিত্র স্পষ্ট হলেও প্রকৃতিতে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। ধুলোমলিন গাছপালা ধুয়ে-মুছে সতেজ হয়ে উঠেছে, কমেছে তাপমাত্রাও। দীর্ঘদিনের অসহনীয় গরমের পর শনিবারের এই বৃষ্টি যশোরবাসীর কাছে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এলেও নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুন্ডু জানিয়েছেন, আমরা আগে ভাগেই ড্রেন পরিস্কার করেছি। যাতে পানি দ্রুত প্রবাহিত হতে পারে। তার পরেও অসচেতনতার কারণেও পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে।
