নহাটা-বাটাজোড় খেয়াঘাটে ব্রিজ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর
মাগুরা সংবাদদাতা
নবগঙ্গা নদীর বুকে প্রতিদিনই চলছে জীবনের লড়াই। মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা-বাটাজোড় খেয়াঘাট আজও হাজারো মানুষের নিত্যদিনের একমাত্র ভরসা। মাত্র ৫ টাকায় নদী পার হয়ে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পৌঁছে যাচ্ছেন তাদের গন্তব্যে। তবে সময়ের দাবিতে এখন এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা-এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২৫০ বছরের পুরোনো এই খেয়াঘাটে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২টি নৌকা নিয়মিত চলাচল করছে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মাঝিরা নিরলসভাবে যাত্রী পারাপার করছেন। কচুরিপানায় ভরা নদীপথ, জোয়ার-ভাটা ও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেই তারা মানুষকে নিরাপদে পার করে দিচ্ছেন।
নদীর ওপারের বাটাজোড় এলাকার শতাধিক ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থী প্রতিদিন নহাটা বাজার ও আশপাশের এলাকায় যাতায়াতে এই ঘাটের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া নদীর এপারে বসবাসকারী অনেকেই জীবিকার তাগিদে মাগুরা জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় যেতে এই খেয়াঘাট ব্যবহার করেন। ব্রিজ না থাকায় নৌকাই তাদের একমাত্র ভরসা।
খেয়াঘাটে কর্মরত মাঝিরা জানান, অল্প ভাড়ায় মানুষের সেবা দেয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে কষ্টসাধ্য কাজের পরও মাঝে মাঝে সামান্য ভাড়া বাড়ানো নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পাশের এলাকায় দুটি ব্রিজ নির্মিত হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে এখনো কোনো ব্রিজ হয়নি। একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে যাতায়াত সহজ হবে, সময় ও খরচ কমবে এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, নতুন সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে নহাটা-বাটাজোড় খেয়াঘাটে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করুক। এতে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে এবং বদলে যাবে এ জনপদের জীবনচিত্র।
