বাংলার ভোর প্রতিবেদক
আজ ৪ এপ্রিল, যশোর গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যশোর শহরে প্রবেশ করে নিরস্ত্র ও নিরীহ মানুষের ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। ইতিহাসের সেই বিভীষিকাময় ঘটনায় শত শত নিরপরাধ মানুষ শহীদ হন। বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে দিনটি এক গভীর শোক ও বেদনার স্মারক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
স্বাধীনতার দীর্ঘ পাঁচ দশক পরও যশোরবাসী এ দিনটিকে গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের সঙ্গে স্মরণ করে আসছে। প্রতিবছরের মতো এ বছরও ‘যশোর গণহত্যা দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন একযোগে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
গণহত্যা দিবস পালন কমিটি-২০২৬ সূত্রে জানা গেছে, দিবসটির গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং শহীদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, শনিবার সকাল ৯টায় শংকরপুর বধ্যভূমিতে শহীদদের স্মরণে পুষ্পমাল্য অর্পণ। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়ে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাবেন।
এছাড়া বিকেল ৪টায় টাউন হল ময়দানর রওশন আলী মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা ও স্মরণসভা। এতে মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখবেন। তারা ১৯৭১ সালের ওই দিনের ভয়াবহ স্মৃতিচারণ করবেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানো এবং শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করাই মূল লক্ষ্য।
গণহত্যা দিবস পালন কমিটির আহ্বায়ক হারুন অর রশীদ ও সদস্য সচিব রিয়াদুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, যশোর গণহত্যা দিবস শুধু শোকের নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয় ও স্বাধীনতার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তারা আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও ন্যায়বিচারের আদর্শে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার জন্য এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে যশোরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মেও আলাদা আলাদা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যশোরবাসি আজ গভীর শোক ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে স্মরণ করবে ১৯৭১ সালের সেই নির্মম গণহত্যার দিনটি।

