হিমেল খান
পবিত্র রমজান শেষে ঈদ সমাগত। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে কাল বা পরশু উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এদিকে ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে যশোর শহরের বাজারগুলোতে বাড়ছে কেনাকাটার চাপ। রোজার শেষ সময়ে এসে নতুন পোশাকের পাশাপাশি ক্রেতাদের এখন চাহিদা আতর, টুপি, তসবিহ ও জায়নামাজের। ঈদের নামাজ ঘিরে সুগন্ধি আতরের মিষ্টি ঘ্রাণ আর নান্দনিক টুপির সমাহার ক্রেতাদের মাঝে উৎসবের আমেজ আরো বাড়িয়ে তুলেছে।
শহরের মুজিব সড়ক, দড়াটানা, চৌরাস্তা, সিটি প্লাজা ও কালেক্টরেট মার্কেট এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে ক্রেতাদের ভিড়। বিশেষ করে ঈফতারের পর বাজারগুলোতে ভিড় চোখে পড়ার মতো। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় কেউ আসছেন পরিবারের সদস্যদের সাথে কেউ আবার একাই আসছেন বাজারগুলোতে। খুজছেন টুপি, পাঞ্জাবি সাথে সুগন্ধি আতর।
আল হেরা কুতুব খানা নামের এক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক সিদ্দিকুর রহমান জানান, রমজানের প্রথমদিকে বিক্রি কম হলেও ২০ রোজার পর থেকে বেচাকেনা বেড়েছে। দিন যত এগোচ্ছে, ভিড় তত বাড়ছে। চাঁদ রাতে বিক্রি আরো বাড়বে বলে আশা করছেন।
শহরের চৌরাস্তা এলাকার হক্কানী কুতুবখানা মালিক ওসমান গনী বলেন, এবারের বাজারে দেশীয় হতেবোনা টুপির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। আাগে যেখানে সাধারণ সাদা টুপি বেশি বিক্রি হতো, সেখানে এখন নকশা করা ও রঙ্গিন টুপির প্রতি ক্রেতার আগ্রহ বেড়েছে। তুলনামূলক কম দামে কারণে এসব টুপি ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার টুপি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান এই বিক্রেতা।
এদিকে শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় পণ্যের পাশাপাশি চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আনা বিভিন্ন ডিজাইনের টুপি বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ টুপির দাম টুপির দাম ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া বিদেশি ডিজাইনের টুপিও বাজারে রয়েছে। তুর্কি, পাকিস্তানি, আফগানি ও মালয়েশিয়ান স্টাইলের টুপিরও আলাদা কদর রয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে। দাম অনুযায়ী এসব টুপি ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে তর্কী টুপি ৫শ থেকে ৬শ, কাশ্মিরি টুপি ৬শ’ থেকে ১৪শ, আফগানি টুপি ৪শ’ থেকে ৯শ, পাকিস্তানি টুপি ১৫০ থেকে শুরু করে ১৫শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
মাদানী কুতুব খানার মালিক সুলতান মাহমুদ বলেন, টুপির পাশাপাশি বিভিন্ন ব্রান্ডের আতর বিক্রি হচ্ছে। ছোট বড় বিভিন্ন আতর থাকায় ক্রেতারা সহজেই পছন্দমতো কিনতে পারছেন। ৩০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে এসব আতর। তরুণদের মধ্যে হালকা সুগন্ধি আতরের চাহিদা রয়েছে বলে জানান তিনি।
ক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো কেনা কাটা করছেন। শহরের বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বছরে দুইবার ঈদ আসে তাই ঈদের নামাজে নতুন টুপি না হলে ভালো লাগে না। নিজের জন্য এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য টুপি কিনেছেন, সঙ্গে নিছেন আতরও।
একই এলাকার শরিফুল ইসলাম বলেন, ঈদের দিন ছোটদের নিয়ে নামাজে যাওয়ার সময় নতুন টুপি আর আতর না থাকলে ঈদের আমেজ পাওয়া যায় না। নতুন কাপড় ও সুগন্ধি উৎসবের আনন্দ আরো বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়া তসবিহ ও জায়নামাজের বাজারেও ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। বিভিন্ন মান ও ডিজাইনের জায়নামাজ ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে কয়েক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তসবির ক্ষেত্রেও রয়েছে কাঠ, পাথর, ক্রিস্টাল ও ডিজিটালসহ নানা ধরনের ডিজাইন। অনেকেই এগুলো উপহার হিসেবেও কিনছেন।
শুধু স্থায়ী দোকান নয়, শহরের বিভিন্ন মসজিদের সামনে ও ফুটপাতে বসেছে অস্থায়ী দোকান। কম দামের কারণে স্বল্প আয়ের মানুষের ভিড় বেশি এসব দোকানে। ৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যেই প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে।
বশির মিয়া নামের একজন ক্রেতা বলেন, সামর্থের মধ্যে ঈদের নামাজের জন্য একটি জায়নামাজ ও তসবিহ কিনেছেন। তবে আতরের দাম কিছুটা বেশি বলে দাবি করছেন তিনি।

