বাংলার ভোর প্রতিবেদক
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন বলেছেন, ‘একটি পক্ষ সেনাবাহিনীকে উস্কানি দিয়ে আরেকটি ওয়ান ইলেভেন তৈরি করার চক্রান্ত করছে। জনগণকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ করা হচ্ছে। এই চক্রান্তের সঙ্গে দেশীয় ও বিদেশী চক্রান্তকারী জড়িত। তাদের বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। সোমবার যশোর শহরের একটি হোটেলে জুলাই গণভভ্যুত্থানে শহীদের স্মরণে গণঅধিকার পরিষদ যশোর জেলা শাখা আয়োজিত আলোচনা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করছে। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে যদি সেনাবাহিনী ভূমিকা না রাখতো, তাহলে অভ্যুত্থান সফল হতো না। যখন সেনাবাহিনীর বন্দুকের নল আওয়ামী লীগে দিকে, ফ্যাসিস্ট পুলিশের দিকে তাক করেছিলো তখনই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। এখন সেই সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি করার চক্রান্ত শুরু হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসকে উদ্দেশ্য করে রাশেদ খাঁন বলেন, এই সরকারের দায়িত্ব অনেক। এই সরকার যদি গণহত্যার বিচার সঠিকভাবে না করতে পারে; তাহলে গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা হবে। এই সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করতে পারে, তাহলে দুই হাজার শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করা হবে। এই মুহূর্তে সব রাজনৈতিক দল একতাবদ্ধ হয়েছে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের ব্যাপারে। আওয়ামী লীগ যে গণহত্যা চালিয়েছে, তারপরেও এই দল কোনভাবেই আর রাজনীতি করতে পারে না। কোনভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। সুতরাং আমাদের স্পষ্ট কথা, আমরা যারা রক্ত দিয়েছি, আন্দোলন করেছি, এই ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন করেছি তাদরে বক্তব্য হলো, আওয়ামী লীগ আগামি নির্বাচন কেন, আওয়ামী লীগ বাংলার মাটিতে আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এই ব্যাপারে জাতীয় ঐক্যমত দরকার। ঐক্যমত যদি না থাকে, তাহলে আওয়ামী লীগ ফিরে এসে আমাদের কাউকেই রেহায় দিবে না।
আওয়ামী লীগকে সবাইরে ফাঁসিতে ঝুলাবে। তাই এই সরকারকে জাতীয় সংলাপের আয়োজন করতে হবে। যারা গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা রেখেছে তাদের ডাকতে হবে। তিনি না করে নিষিদ্ধের ব্যাপারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উপর দায় চাপাচ্ছেন। তিনি কেন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারছে না, তিনি কি আন্তজার্তিক চাপের কারণেই নিষিদ্ধ করতে পারছে না।
অনুষ্ঠানে গণঅধিকার পরিষদ যশোর জেলা শাখার সভাপতি এবিএম আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, গণঅধিকার পরিষদের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক ইকবাল, প্রাচ্য সংঘের প্রতিষ্ঠাতা বেনজিন খান প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বাংলার ভোরের সম্পাদক ও প্রকাশক সৈয়দ আবুল কালাম শামছুদ্দীন জ্যোতি, শ্রমিক নেতা মাহাবুবুর রহমান মজনু, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম, যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা প্রমুখ।