হিমেল খান
শৈশবের খেলনা গাড়ি খুলে ভেতরের অংশ দেখার কৌতুহল থেকে শুরু। সেই আগ্রহ আর চেষ্টায় এবার আকাশে উড়ছে যশোরের চৌগাছার এসএসসি পরিক্ষার্থীর তৈরি যুদ্ধ বিমান। সীমিত সামর্থ্যরে মধ্যেও এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
যশোরের চৌগাছা সরকারি শাহাদাত পাইলট স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী সাইফ এনাম। চৌগাছা উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকেই খেলনার যন্ত্রপাতির প্রতি আগ্রহ ছিলো তার। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে খেলনা গাড়ি খুলে আবার জোড়া লাগাতো এনাম। সেই কৌতুহলই ধীরে ধীরে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে নিজ উদ্যেগে তৈরি করা একটি ফাইটার জেটের মডেল আকাশে উড়াতে সক্ষম হয় সে। এটি এ-২৭ মডেলের একটি ফাইটার জেটের আদলে তৈরি।
মাত্র ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বিমানটি তৈরি করতে। আর এই বিমানে ব্যবহার করা হয়েছে ১৪০০ কেভি ক্ষমতার বিএলডিসি মোটর, ৮ ইঞ্চি প্রপেলার, রিমোট কন্ট্রোল রিসিভার, ব্যাটারি এবং ফাইটার জেটের আদলে নির্মিত সম্পূর্ণ বডি স্ট্রাকচার।
সাইফ এনাম জানায়, ইউটিউব থেকে ধারণা নিয়ে ধাপে ধাপে বিমান তৈরির কাজ শুরু করেন। দীর্ঘদিনের চেষ্টা আর পরিশ্রমের পর অবশেষে আকাশে উড়ছে তার বিমানটি।
তার তৈরি বিমানটি আকাশে উড্ডয়ন দেখতে ভেড় করেন স্থানীয় মানুষ। মূহূর্তটি ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। আকাশে পাক খেতে থাকা ছোট যুদ্ধ বিমানটি সবার মধ্যেই সৃষ্টি করে বিস্ময় ও আনন্দ।
সিকেন্দার আলী নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এনামের তৈরি এই যুদ্ধ বিমানটি যখন আকাশে উড়ে দেখতে খুব ভালো লাগে।
একই এলাকার শরীফুল ইসলাম বলেন, এনাম এই এলাকার মেধাবী ছাত্র। পড়াশুনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের জিনিস উদ্ভাবন করে।
এনামের বাবা সারেজ আলী একজন কৃষক। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যাওয়ার পর নিয়মিত কাজ করতে পারেননা তিনি। পরে ওষুধ কোম্পানির চাকরি ছেড়ে কৃষি কাজ শুরু করেন।
সারেজ আলী বলেন, পারিবারিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও ছেলের এই সাফল্যে গর্বিত তিনি। তবে সরকারি সহায়তা পেলে ছেলের উদ্ভাবনী কাজ আরো এগিয়ে যাবে বলে আশা পরিবারের।
প্রযুক্তির প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়াতে এমন উদ্যোগ অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।
