চৌগাছা সংবাদদাতা :
যশোরের চৌগাছা উপজেলার দুলালপুর গ্রামের এক কলেজছাত্রীর বিরুদ্ধে বিয়ের মাধ্যমে অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দুলালপুর গ্রামের আব্বাস আলীর মেয়ে আনিসা খাতুন যশোর এমএম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। উপজেলার পেটভরা গ্রামের আব্দুল মাজিদের ছেলে মেহেদী হাসান ও তার পরিবারের দাবি গত ২৫ মার্চ আনিসার সঙ্গে মেহেদীর বিয়ে হয়।

মেহেদীর পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের সময় কাবিননামা বাবদ চার লাখ টাকা এবং স্বর্ণালংকার দেয়ার শর্ত দেয়া হয়। পরে স্বর্ণালংকার, শাড়ি, প্রসাধনী ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করা হয়।

তাদের দাবি, বিয়ের দুই সপ্তাহ পর পরীক্ষার কথা বলে আনিসা স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। এরপর একাধিকবার তাকে শ্বশুরবাড়িতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলেও তিনি আসেননি। এ ঘটনায় মেহেদী হাসান চৌগাছা থানায় এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি (এনপিএস)-এর কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বেলা ১১টার দিকে চৌগাছা থানায় একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মেয়ারাজ উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তির দাবি, আলোচনার এক পর্যায়ে আনিসা কাবিননামা সংক্রান্ত অর্থ ও কিছু স্বর্ণালংকারের বিষয়ে বক্তব্য দেন। তবে তার বাবা আব্বাস আলী ও মা শাহানাজ পারভীন অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাদের মেয়ে মেহেদীকে তালাক দিয়েছেন এবং তার সঙ্গে আর সংসার করবেন না।

সালিশ বৈঠকে মেহেদীর বাবা আব্দুল মাজিদ, মামা আয়ুব হোসেন, নেসার উদ্দীন বিশ্বাস, আনিসার চাচা মোদাচ্ছের হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ অঞ্চলে বিয়ের কাবিনামা বাণিজ্যের কারিগর আনিসা। তার এ অঞ্চলে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক আছে। এর আগেও সে পটুয়াখালীতে ২০২৪ সালে ১২এপ্রিল রাসেল নামে একটি ছেলেকে প্রতারণামূলক বিয়ে করে। সেখান থেকেও কাবিননামা বাবদ ৩ লাখ টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণের গহনা হাতিয়ে নেয় আনিসা।

Share.
Exit mobile version