বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে মহান স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর ফ্যাসিবাদ মুক্ত দেশ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার পেয়েছি। যে সরকার জনগণের কাছে প্রদত্ত ওয়াদা পূরণের জন্য প্রথম দিন থেকে কাজ শুরু করছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের এই গণতান্ত্রিক অর্জনকে নস্যাৎ করার জন্য আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র দেখেছি। জনগণ অদম্য ছিল বলেই তারা সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অধ্যাপক নার্গিস বেগম আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বিএনপিকে হুমকি দিচ্ছে। সংসদের কথা বলে সেই দলের নেতারা রাজপথে নামার কথা বলছেন। কিন্তু বিএনপিকে রাজপথে নামার হুমকি দিয়ে লাভ নেই।

রাজপথ পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা বিএনপির আছে আমরা ওই পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি। ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্ত কি ভাবে মোকাবেলা করতে হয় সেটি বিএনপির জানা আছে। তারা যাই বলুক তাদের উস্কানীতে কোন ভাবেই জনগণ পা দেবে না। সকল সমস্যার সমাধান সংসদে হবে। যারা রাজপথে নামার কথা বলছেন, তারাও সংসদের সদস্য। সংসদেই সমস্যার সমাধান করেন না কে? আমাদের ভূ-খণ্ড বারংবার আক্রান্ত হয়েছে। দেশের মানুষ মহাজনের শোষণ থেকে দেশকে মুক্ত করেছে। মানুষ বারংবার খাদের কিনারা থেকে দেশকে ।

অধ্যাপক নার্গিস বেগম আরও বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার সাথে সাথে একটি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে এটি রাষ্ট্রীয় নয়, বৈশ্বিক সংকট। দেশের জনগণের কাছে সংকট মোকাবেলা করা নতুন কিছু নয়। জনগণ সকল সংকটে এক হয়ে ইস্পাত কঠিন ঐক্য নিয়ে মোকাবেলা করেছে। বিচলিত হওয়ার কোন কারণ নেই সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা এক হয়ে দাঁড়ালে সকল সংকট কেটে যাবে। স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র রক্ষা এবং সরকারের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য জনগণের কাছে দেয়া ওয়াদা বাস্তবায়নে সকলকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

দলীয় নেতাকর্মীদের সকল বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনীতি করি। যার মৃত্যুর পর তার কঠোর সমালোচকরাও আজ পর্যন্ত সততা, দেশপ্রেম, নীতি আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেনি। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও আমৃত্যু দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র সর্বোপরী দেশ ও জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে আপোসহীন ছিলেন। তাই দেশ ও জনগণের স্বার্থে সকল প্রলোভন ত্যাগ করে আমাদের ভূখণ্ডকে রক্ষা করতে হবে। আমরা রাজপথে ছিলাম সকলকে দেশ গড়ার দায়িত্ব নিতে হবে।

আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তৃতায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আজকে আমরা যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি, আমাদের হাতে কোন ক্ষমতা নেই। যারা আমাদেরকে নির্বাচিত করেছেন, ক্ষমতা তাদের হাতে। জনগণের ভোটে নির্বাচিতরাই দেশ পরিচালনা করবে এটিই সাংবিধানিক কাঠামো। আমাদের নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন ক্ষমতার বিষয় নয়, জনগণের দায়িত্ব পালনের সুযোগ মাত্র।

ব্যক্তির চেয়ে দল বড় দলের চেয়ে দেশ বড় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এই আদর্শ ধারণ করেই তো রাজনীতি করি। কিন্তু ব্যক্তি যখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় তখন দল এবং দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যদি সত্যিকারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলি তাহলে নতুন করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হতে হবে। সেটি করতে পারলে জনগণের কাছে আমাদের দেওয়া অঙ্গীকার রাখতে পারবো। শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শচ্যুত হলে তিনি বিএনপি পরিবারের সদস্য হারাবেন।

আমরা সেই দল করি নির্বাচনের আগে আমাদের নেতা তারেক রহমান যে ওয়াদা করেছিলেন। জনগণের হাতের কালি মুছার আগে সেটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন। ফ্যামিলি কার্ড, সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি ভাতা প্রদান, খাল খননের পর আগামী পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড চালু করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন সরকার ফোকলা অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরুর পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকটের আঁচ যেন জনগণের গায়ে না লাগে সে ব্যাপারে সরকার সদা সতর্ক।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হোসেন আজাদ, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাড. মোহাম্মদ ইসহক, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম, নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাসুম, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, নগর মহিলা দলের সভাপতি শামসুন্নাহার পান্না প্রমুখ। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম।

Share.
Exit mobile version