কালিগঞ্জ সংবাদদাতা
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত ইয়ার আলী এক সহযোগীসহ আটক হয়েছে। এ সময় অস্ত্র, মাদক ও দু’টি হাতবোমা উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ শুক্রবার সন্ধ্যার পর কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে র‌্যাব ও পুলিশের একটি চৌকস যৌথ টিম কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামের কুখ্যাত ডাকাত ইয়ার আলীকে (৩৫) গ্রেফতারে অভিযান চালায়।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী আলমগীরের বাড়িতে ঘেরাও করে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি ৯ মি.মি. বিদেশি পিস্তল চার রাউন্ড তাজা গুলি, দুইটি ওয়াকিটকি ও ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। পরে তার স্বীকারোক্তিতে সহযোগী বেনাদনা গ্রামের উজ্জ্বলকে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের চৌধুরীকাটি গ্রামের মোতালেব মিয়ার বাগান থেকে দুটি হাতবোমা উদ্ধার করে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ। মূলত গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে এই পরিত্যক্ত বিস্ফোরকগুলোর সন্ধান মেলে। উদ্ধারকৃত হাতবোমা দুটি বর্তমানে পুলিশি পাহারায় নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়ার আলী ও তার বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ছিল সাধারণ মানুষ। তার গ্রেফতার এবং বিস্ফোরক উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে কৃষ্ণনগর বাজারে স্থানীয়দের আনন্দ মিছিল করতে দেখা যায়। অনেককে স্বতস্ফূর্তভাবে মিষ্টি বিতরণ করতেও দেখা গেছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, “এই গ্রেফতারের মাধ্যমে আমরা শান্তিতে ব্যবসা করার সাহস ফিরে পেয়েছি।”

কালিগঞ্জ সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, পুলিশের উপশাখা এবং গোয়েন্দা বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলসহ ইউনিয়নজুড়ে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, সমন্বিত এই অভিযানের ফলে সীমান্তঘেঁষা এই জনপদে অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়বে এবং সাধারণ জনগণের মাঝে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

এ ব্যাপারে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভিন বলেন ইয়ার আলী গ্রেপ্তার, অস্ত্র ও বোমা উদ্ধারের ফলে জনমনে শান্তি তৈরি হয়েছে। এলাকার মানুষ খুশি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে।

কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আলম বলেন, কুখ্যাত ডাকাত ইয়ার আলী গ্রেফতার হওয়ায় এলাকার মানুষ নিরাপত্তা ফিরে পেয়েছে তবে বাহার আলী পালিয়ে যাওয়ায় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও বলেন তারা বার বার গ্রেফতার হয় এবং ২মাস পর সিস্টেম করে বের হয়ে এসে পুনরায় স্বরূপে ফিরে আসে। এটা দুঃখজনক।

উল্লেখ্য, কুখ্যাত ডাকাত ইয়ার আলী কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনর হত্যা মামলায় ২ নাম্বার আসামি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ৩০ টি মামলা রয়েছে।

Share.
Exit mobile version