বাংলার ভোর প্রতিবেদক
ভোরের যশোর যেন চেনা শহর নয়। চারপাশে ঘন কুয়াশার চাদর, কয়েক হাত দূরের কিছুই স্পষ্ট দেখা যায় না। কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে প্রকৃতি, কাঁপছে মানুষও। উত্তরের হিমেল বাতাস শরীর ভেদ করে ঢুকে পড়ছে হাড়ে হাড়ে। শীতের এই নির্মমতায় স্থবির হয়ে পড়েছে যশোরের জনজীবন।
রোববার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া দফতর জানায়, ভোরে কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা ছিল মাত্র ৫০ মিটার। এদিন সকালে জীবন জীবিকার প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হওয়া মানুষরা কুয়াশার চাদরে মোড়ানো অন্য রকম শহর দেখে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি, ভিডিও শেয়ার করে নিজেরদের মন্তব্য তুলে ধরেছেন। যশোরে কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রা নিম্নমুখী থাকায় শীতের তীব্রতা দিনে দিনে বাড়ছে।
শহরের ফুটপাতে কিংবা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাকালেই চোখে পড়ে শীতের বাস্তব চিত্র। ছেঁড়া কম্বল গায়ে জড়িয়ে, কেউ আগুন জ্বালিয়ে বসে আছে দল বেঁধে। দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক কিংবা খোলা আকাশের নিচে থাকা ছিন্নমূল মানুষদের জন্য এই শীত যেন আরও ভয়াবহ। কাজের সন্ধানে বের হলেও ঠাণ্ডার কারণে অনেকেই কাজে যেতে পারছেন না। ফলে দৈনিক আয় বন্ধ হয়ে পড়ায় দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।
রিকশাচালক শিপন হোসেন বলেন, শীতে সকালে রিকশা বের করতেই কষ্ট হয়। যাত্রীও কম। শরীর ঠাণ্ডায় শক্ত হয়ে যায়। তবুও পেটের দায়ে বের হতে হয়।
ঘন কুয়াশার প্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচলও। মহাসড়কে ধীরগতিতে চলছে গাড়ি। কোথাও কোথাও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে যানবাহন। সকাল গড়াতেই কুয়াশা কিছুটা কাটলেও ঠান্ডার দাপট কমছে না।
শীতের সবচেয়ে বড় আঘাতটা পড়ছে শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে যশোর জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে। চিকিৎসকরা বলছেন, এই সময়টাতে সামান্য অবহেলাও বড় ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক নাজমুল হুদা প্রিন্স জানান,
শীতের সময় শিশু ও বয়স্কদের উষ্ণ রাখা খুব জরুরি। ঠাণ্ডা লাগলে দ্রুত চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন। যথা সম্ভব পানি পান করতে হবে। গরম কাপড় পরিধান করতে হবে।
শীতের এই দুর্দশায় সমাজের বিত্তবানদের পাশাপাশি প্রশাসনের দিকেও তাকিয়ে আছেন অসহায় মানুষগুলো। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ এবং ছিন্নমূলদের জন্য জরুরি সহায়তা বাড়ানোর দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে যশোরের জনজীবনে শীতের এই কষ্ট আরও দীর্ঘ হতে পারে। কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনছন্দ ফেরার লড়াই যশোরবাসির।

