বাংলার ভোর প্রতিবেদক
খাজনা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে যশোরের সাতমাইল বারীনগর সবজির মোকামে ব্যবসায়ীদের আকস্মিক কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই পাইকারি বাজার। বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন শত শত সবজি চাষি।
স্থানীয়রা জানান, নতুন ইজারা কার্যকর হওয়ার পর পহেলা বৈশাখ থেকে প্রতি মণ সবজিতে খাজনা ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পূর্ব আলোচনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যবসায়ীরা একযোগে কেনাবেচা বন্ধ করে দেন।
এদিকে হঠাৎ করে বাজারে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা তাদের পণ্য নিয়ে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। এতে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয় এবং তীব্র রোদে দীর্ঘ সময় ধরে বসে থেকে অনেকের সবজি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
নুর হোসেন নামের একজন জানান, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়া এভাবে কেনাবেচা বন্ধ হওয়ায় তারা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সাতমাইল এলাকার আরেক কৃষক বাবু অভিযোগ করেন, খাজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘ঢলতা’ নামে অতিরিক্ত ওজন কেটে রাখার প্রথাও তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এ বিষয়ে হাট ইজারাদার আব্দুস সালাম জানান, পূর্বে খাজনা ১০ টাকা থাকলেও গত বছর তা কমিয়ে ৮ টাকা করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সামান্য সমন্বয় হিসেবে ১ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
তার দাবি, একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করেছে। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং বর্তমানে বাজারে কেনাবেচা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপÍরের উপ পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, দক্ষিণ পঞ্চিম অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সবজির মোকাম যশোরের সাতমাইল বারীনগর। এখান থেকে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের চাহিদার সিংহভাগ ৭০ ভাগ সবজি সরবরাহ করা হয়।
