বাংলার ভোর প্রতিবেদক
ঢাকায় চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার পরিপূর্ণ সুস্থতা কামনায় যশোরে দুয়া মোনাজাত হয়েছে। রবিবার বিকালে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে যশোরবাসীর সম্মিলিত দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করে জেলা বিএনপি।

এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ অংশ নেন। তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলে যেন মানুষের ঢল নামে। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় গোটা ঈদগাহ ময়দান। দেশনেত্রীর সুস্থতা কামনায় মুসল্লীদের আমিন আমিন ধ্বনিতে গোটা এলাকা মুখরিত হয়। কোন রাজনৈতিক দলীয় প্রধানের এভাবে উন্মুক্ত স্থানে এ ধরনের আয়োজন যশোরের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন দোয়া মাহফিলে আগত মুসল্লীরা। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় ছিলো সবার মুখে মুখে।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তার সুস্থতা কামনায় যশোরে দোয়া মাহফিলের আয়োজন পূর্ব ঘোষণা ছিলো বিএনপির। ঘোষণা অনুযায়ী আসর বাদ ঈদগা মাঠে ছিলো দোয়ার আয়োজন। কিন্তু বিকেল চারটা থেকেই সর্বদলীয় বিভিন্ন মত আদর্শের মানুষের ঢল নামে ঈদগাহ মাঠে। রাজনৈতিক নেতাদের এই সম্প্রীতি অন্যান্য নজিরও স্থাপন করেছে। একপর্যায়ে হাজার হাজার মানুষ ঈদগা মাঠে আসরে নামাজ আদায় করে। নামাজের পর শুরু হয় দোয়া মাহফিল। এতে অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। সৃষ্টি কর্তার কাছে কান্নাজড়িত কন্ঠে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেন। দোয়া পরিচালনা করেন জেলা ইমাম পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি আব্দুল মান্নান।

বিএনপি’র চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরিপূর্ণ সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় রোববার যশোরবাসীর আয়োজনে ঈদগাহ ময়দানে সম্মিল্লিত দোয়া ও মোনাজাত হয়-বাংলার ভোর

দোয়া মাহফিলে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যশোরের প্রধান সমন্বয়ককারী নূরুজ্জামান বলেন, ‘খালেদা জিয়া একটি দলের প্রধান হলেও তিনি অন্য অনেক দলের কাছেও শ্রদ্ধেয়। এর কারণ হলো তার রাজনীতির শুরু থেকেই আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। পারিবারিক বৃত্তের বাইরেও বিএনপির মতো একটি বড় দলকে সার্বজনীন করতে পেরেছিলেন। তাই তার অসুস্থতা নিয়ে সব মহলেই উদ্বেগ। তাই মানুষের এই ঢল। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে দেশের সর্বশ্রদ্ধেয় নেতার সুস্থতা কামনা করছি।’ জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া তার রাজনীতিতে আপোস করেনি। দেশের যেকোন সংকটময় মুহূর্তে তার অবদান প্রশংসিত। তাই তার এই অসুস্থতায় সারা দেশের মানুষ বিমর্ষ। মানুষের এই ঢল প্রমাণ করে তার জনপ্রিয়তা। তার স্বাস্থ্য সংকটমুহূর্তে তার সুস্থতা কামনা করছি।’

বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের বাক স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই সংগ্রামে আপোসহীনতা দেখিয়েছেন। সে কারণে তিনি দলের উর্ধ্বে ওঠে সমগ্র জাতির অভিভাবক হিসেবে আবির্ভুত হয়েছেন। দেশ মাতার অসুস্থতার কারণে সমগ্র দেশবাসী দোয়া ও প্রার্থনা করছেন। তিনি সমগ্র বাংলাদেশের মতো যশোরের উন্নয়নেও কাজ করেছেন। তাই দলমত নির্বিশেষে তার প্রতি সাধারণ মানুষ এতো ভালোবাসা প্রদর্শন করছেন। জনগণের দোয়া সৃষ্টিকর্তা তাকে সুস্থ করে জনগণের কাতারে ফিরিয়ে দেবেন।’ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর শহর জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর ইসমাইল হোসেন, জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মুফতি ফিরোজ শাহ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) জেলা সভাপতি নিজামদ্দিন অমিত, যশোর সরকারি এম এম কলেজের শিক্ষক প্রফেসর আব্দুল কাদের, ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) যশোর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি আবু আহসান লাল্টু, জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এমএ গফুর, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যাণ্ড ইণ্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান, সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ দ্দৌলা, দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী, ওয়ালামা মাশায়েখ, ব্যবসায়ী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

Share.
Leave A Reply Cancel Reply
Exit mobile version