বাংলার ভোর প্রতিবেদক
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে খুলনা বিভাগের যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ২০টি আসনে প্রায় একশ’ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। এগুলোর ১০টিতে জামায়াতে ইসলামী ও ৩টিতে বিএনপির প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। বাকিগুলোতে দ্বিমুখি-ত্রিমুখি লড়াই হতে পারে। তবে বিএনপির দলীয় কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভালো অবস্থানে থাকা কিছু আসনে চাপে আছে বিএনপি।

সাতক্ষীরার চার আসনেই স্বস্তিতে জামায়াত
সাতক্ষীরার চারটি আসনে মোট ২০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে সাতক্ষীরা-১ আসনে বিএনপি এবং ২, ৩ ও ৪ আসনে জামায়াত শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

সাতক্ষীরা-১ আসনে বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিব এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের মো. ইজ্জত উল্লাহর সঙ্গে তুমুল লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তালা উপজেলার বাসিন্দা মুদিদোকানি আবুল কালাম সানা বলেন, ‘এই আসনে আমরা বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিব এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহর মধ্যে তুমুল লড়াই দেখতে পাচ্ছি।’ একই কথা বলেছেন কলারোয়ার বাসিন্দা আলী আক্কাস।

সাতক্ষীরা-২ আসনে জামায়াতের আব্দুল খালেকের অবস্থান খুবই শক্ত। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির আব্দুর রউফের। তবে মাঠ পর্যায়ে শক্ত অবস্থানে জামায়াত প্রার্থী।

সাতক্ষীরা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দল তাকে মনোনয়ন না দিলেও তার অবস্থান ভালো। এই আসনে বিএনপির ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান দলীয় ভোট টেনে নিলে জামায়াতের হাফেজ রবিউল বাশার জিতে যেতে পারেন।

সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের জি এম নজরুল ইসলাম ও বিএনপির ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামানের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। মাঠপর্যায়ে দুজনের অবস্থানই শক্ত।

যশোরের ছয় আসনের একটিতে স্বস্তিতে বিএনপি
যশোর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আজিজুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন। ভোটাররা বলছেন, আগে থেকে আসনটিতে জামায়াতের প্রভাব বেশি। তারপরও লিটন প্রার্থী হিসেবে নতুন। বেনাপোল বন্দর এলাকা ও পৌর শহরে তার পরিচিতি থাকলেও আসনটির সর্বত্র তার তেমন কোন পরিচিতি নেই। সেক্ষেত্রে বিএনপির দলীয় ভোটই তার ভরসা। যদিও এ আসনটিতে মনোনয়ন দাবিদার ছিলেন অনেকেই। তার মধ্যে সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে দল প্রাথমিক মনোনয়ন দিলেও পরে তাকে বঞ্চিত করা হয়। এ নিয়ে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা ক্ষোভ এখনো বিরাজমান।

যশোর-২ আসনে জামায়াতের মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের অবস্থান শক্ত। তবে বিএনপির সাবিরা সুলতানা ভোটারদের মন জয় করতে কাজ করে যাচ্ছেন। যদিও আসনটিতে মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের বিভেদ কাটাতে পারেননি তিনি। এ অবস্থায় পরাজয় ব্যবধান কমানোর চেষ্টায় করছেন বলে মত দিয়েছেন তৃণমূলের ভোটাররা।
যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। যশোরে ছয়টি আসনের মধ্যে বিএনপির একমাত্র এই প্রার্থী নির্ভার। দলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের সন্তান হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই আসনে ছয় জন প্রার্থী থাকলেও মূলত অমিতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জামায়াতের আব্দুল কাদেরের। তবে মাঠপর্যায়ে শক্ত অবস্থানে আছেন অমিত।

যশোর-৪ আসনে বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজি শঙ্কায় আছেন। আসনটিতে বিএনপি বহু ভাগে বিভক্ত থাকায় দলীয় প্রার্থী ঝুঁকির মধ্যে আছেন। এই অবস্থায় জামায়াতের প্রার্থী গোলাম রসুল নির্ভার রয়েছেন।

যশোর-৫ আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) শহীদ মো. ইকবাল হোসেনের (কলস) সঙ্গে জামায়াতের গাজী এনামুল হকের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে বিএনপির রশীদ আহমাদ প্রার্থী হওয়ায় দলটির ভোট ভাগাভাগি হলে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে। ভোটাররা বলছেন, হিন্দু-অধ্যুষিত মণিরামপুরে হিন্দুরা যার দিকে ঝুঁকবেন; তার পাল্লা ভারি হবে।

যশোর-৬ আসনে জামায়াতের মোক্তার আলী প্রচারে এগিয়ে আছেন। ভোটাররা তার দিকেই ঝুঁকছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ।

চুয়াডাঙ্গার দুই আসনে লড়াইয়ের আভাস
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা ও দলের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল ভোটযুদ্ধে সমানে সমান। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এবং জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

নড়াইলের দুটির একটিতে শঙ্কায় বিএনপি
নড়াইল-১ সংসদীয় আসনে জেলা বিএনপি সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম প্রচারে এগিয়ে আছেন। জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি মো. ওবায়দুল্লাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপির বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের জয়লাভের আশা বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।

নড়াইল-২ আসন স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম (কলস) শক্ত অবস্থানে আছেন। তার সঙ্গে জামায়াতের আতাউর রহমান বাচ্চুর প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। এই আসনে এখন পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থী ড. এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ মাঠে শক্ত অবস্থান গড়তে পারেননি।

ঝিনাইদহে দুটিতে দ্বিমুখি-ত্রিমুখি লড়াই
ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপির মো. আসাদুজ্জামান ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে আছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের এ এস এম মতিউর রহমানও প্রচারণার মাঠে আছেন।
ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপির মো. আব্দুল মজিদের সঙ্গে লড়াই হবে জামায়াতে ইসলামীর আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকরের।

ঝিনাইদহ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মতিয়ার রহমান প্রচারে এগিয়ে আছেন। বিএনপির মেহেদী হাসানের সঙ্গে তার তুমুল লড়াই হবে বলছেন ভোটাররা।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির রাশেদ খান, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আবু তালেব, স্বতন্ত্র ও বিএনপির বিদ্রোহী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ (কাপ পিরিচ) প্রতীকের মধ্যে ত্রিমুখি লড়াই হবে। ভোটাররা বলছেন, শেষ পর্যন্ত জামায়াতের প্রার্থী শক্ত অবস্থানে আছেন। কারণ বিএনপির ভোট বিভক্ত হয়ে গেছে।

মাগুরার দুটিতেই শক্ত অবস্থানে বিএনপি
মাগুরা-১ আসনে বিএনপির মনোয়ার হোসেন খান শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল মতিনও লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন। মাগুরা-২ আসনে বিএনপির নিতাই রায় চৌধুরী অনেকটা নির্ভার। তার প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর মুরতারশেদ বিল্লাহ।

Share.
Exit mobile version