বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে ‘ভাড়াটে শ্যুটার মিশুককে’ দিয়ে হত্যা করেন তার জামাই বাসেত আলী পরশ। একটি চায়ের দোকান করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে হত্যা মিশনে অংশ নেন মিশুক। শ্যুটার ত্রিদিপ চক্রবর্তী মিশুকের আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ক সার্কেল) মো. আহসান হাবীব।
মিশুককে গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। ত্রিদিপ চক্রবর্তী মিশুক (৩০) যশোর শহরের বেজপাড়া চিরুনি কল এলাকার মিহির চক্রবর্তী ত্রিনাথের ছেলে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং শংকরপুর ইসহাক সড়ক এলাকার আলমগীর হোসেন (৫৫)।
যশোর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই অলক কুমার দে জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলসহ আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে শ্যুটার মিশুককে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত করে বুধবার সন্ধ্যায় শহরের বেজপাড়া মন্দির সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম তার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. আহসান হাবীব জানান, জিজ্ঞাসাবাদে এবং আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিতে ত্রিদিপ চক্রবর্তী মিশুক জানিয়েছে, ভাড়াটে শ্যুটার হিসেবে সে আলমগীরকে হত্যা করেছে। তাকে ভাড়া করেছিল অমি ও প্রিন্স নামে দু’জন। তাকে (মিশু) প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, মিশন শেষে তাকে একটি চায়ের দোকান করে দেয়া হবে। আর টাকার বিনিময়ে জামাই পরশের কাছ থেকে হত্যার কন্ট্রাক্ট নিয়েছিল অমি ও প্রিন্স।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) আহসান হাবীব আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলসহ আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মিশুককে চিহ্নিত করার পর গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে ওই সময় তার যে পোশাক ছিল তাও উদ্ধার করা হয়েছে। অমি ও প্রিন্সকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

