বাংলার ভোর প্রতিবেদক
৪৪তম জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দ্বিতীয় পেয়েছে যশোর জেলা দল। বুধবার চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে লক্ষ্মীপুরকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে। প্রথম ম্যাচে মাদারীপুরকেও একই ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা।
এদিনও টস ভাগ্য সহায় ছিল না যশোরের। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন লক্ষ্মীপুরের অধিনায়ক মমো রেজা। মাত্র একজন পেসার এবং একঝাঁক বাঁহাতি বোলারের সমন্বয়ে সাজানো যশোরের আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের সামনে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে লক্ষ্মীপুর। শেষ পর্যন্ত ৪৮ ওভার ৩ বলে মাত্র ১৫০ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
১৫১ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল যশোরের ব্যাটাররা। মাত্র ২৫ ওভার ৩ বলে ৪ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় যশোর।
লক্ষীপুরের পক্ষে ব্যাট হাতে মমো ৬৮ বলে ৭টি চার ও একটি ছয়ে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন। এরপামে হাবিবুর রহমান ২৫, নাহিদ হাসান ২২ ও তানজীদ আহমেদ ইমন ১৬ রান করেন। বল হাতে যশোরের বাঁহাতি পেসার রাহুল হোসেন ৯ ওভার ৩ বলে একটি মেডেনসহ ৩৪ রানে ৩টি, দুই বাঁহাতি স্পিনার অরিদুল ইসলাম আকাশ ১০ ওভারে ৩টি মেডেনসহ ১৫ রানে ও মেহেদি হাসান শিবলি ৩৭ রানে ২টি করে উইকেট দখল করেন। আর এক বাঁহাতি স্পিনার টিপু সুলতান ৯ ওভারে ১৪ রানে ও মুবতাসিম সাদিক ২৫ রানে একটি উইকেট দখল করেন।
১৫১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই যশোরের অধিনায়ক ইমরানুজ্জামান সাজঘরে ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে দল। তবে সেই চাপ সামলে নেন আর এক ওপেনার মিকাইল ও সাদমান রহমান। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনে গড়েন গুরুত্বপূর্ণ ৪৬ রানের জুটি। মিকাইল ৪১ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৩ রান করে বিদায় নিলে এই জুটি ভাঙে। এরপর প্রথম ম্যাচের ফিফটিধারী শাহরিয়ার সাকিব ক্রিজে এলেও খুব বেশি সময় স্থায়ী হতে পারেননি।
দলের রান যখন কিছুটা থমকে দাঁড়ায়, তখনই ক্রিজে এসে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলা বাংলাদেশ দলের সদস্য কালাম সিদ্দিকী এলিন। অন্যপ্রান্তে আগলে রেখে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন সাদমান রহমান। জয় থেকে মাত্র ৭ রান দূরে থাকতে সাজঘরে ফেরেন সাদমান। ফেরার আগে তিনি ৬৭ বলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে দৃষ্টিনন্দন ৬১ রান করেন। বাকি পথটুকু আশিকুল ইসলাম নিলয়কে সঙ্গে নিয়ে সহজেই পাড়ি দেন এলিন। ফলে মাত্র ২৫ ওভার ৩ বলে ৪ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় যশোর। এলিন ২৬ বলে সমান ৩টি চার ও ছয়ে ৪০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
বল হাতে লক্ষীপুরের নাহিদ হাসান ৪৬ রানে ২টি, শাকিল হোসেন ও আহমদ শরীফ ১টি করে উইকেট দখল করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ ম্যাচে যশোর খেলবে খাগড়াছড়ির বিপক্ষে।
