কোটচাঁদপুর সংবাদদাতা
অ্যার্টনি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনার জন্ম হয়েছে। বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের সেই চেতনার বহিঃপ্রকাশ।
শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পাইলট হাইস্কুল ময়দানে স্থানীয় সুধীজনের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। অ্যার্টনি জেনারেল বলেন, জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাষ্ট্র বিনির্মাণের যে প্রত্যাশা জনগণ করেছিল। দেশের মানুষের সেই প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার অত্যন্ত সুস্পষ্ট। এই সরকার জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে।
এরই মধ্যে সরকার জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। শহিদ আবু সাইদ হত্যা মামলার রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্রাইবুনাল সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে রায় প্রদান করেছেন। রায়ে সংক্ষুব্ধ পক্ষের আইনগত ভাবে আপিলের সুযোগ আছে। সরকার কিংবা আসামিপক্ষ রায়ের বিপক্ষে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। আমাদের একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, অভিযুক্ত আসামি সবসময়ই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে থাকে। তবে, সংক্ষুব্ধ পক্ষকে মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানানোর চেয়ে আদালতের আশ্রয় নেয়া এবং আদালতেই তাদের বক্তব্য তুলে ধরা উচিত।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। আইনমন্ত্রী এরই মধ্যে এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে সুস্পষ্টভাবে সরকারের অবস্থান ব্যাখা করেছেন। কাজেই, আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে সরকারের অবস্থানের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে চাই।
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছেন। তবে সেই রায় চূড়ান্ত নয়। সুপ্রিম কোর্টে আপিল নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। কোটচাঁদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট একরামুল আলম, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আবুবকর বিশ্বাস, কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান, কোটচাঁদপুর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী, কেএমএইচ কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুস সবুর খানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
