নিজস্ব প্রতিবেদক, ডুমুরিয়া
ডুমুরিয়ার সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ঘুষ বাণিজ্য এখন টক অব দ্য সিটিতে পরিণত হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চায়ের দোকানগুলোতে সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ঘুষ বাণিজ্য নিয়েই চলছে কথাপোকথন। যে কোনো বিষয়ে সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতির অভিযোগ তুলেই ডুমুরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেজিস্ট্রি আটকে দেয়া হচ্ছে। এতে একদিকে ক্ষতি হচ্ছে রাজস্ব আদায়ে। তবে অফিসের কর্তা ব্যক্তিদেরকে ম্যানেজ করতে পারলেই মিলছে রেজিস্ট্রেশন। এমনই অভিযোগ এখন সবার মুখে মুখে।

দীর্ঘদিন যাবৎ জমি রেজিস্ট্রি বাবদ প্রতি লাখে হেবা দলিলে ২০০ টাকা ও কবলা দলিলে ৪০০ টাকা হিসাবে উৎকোচ নিয়ে আসছেন। গত বছর ৩০ এপ্রিল সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে মো. নাহিদুজ্জামান ডুমুরিয়ায় যোগ দেয়ার পর থেকেই সামান্য আইনি ত্রুটি বা নামের বানানে ভুল বের করেই ‘এ দলিল রেজিস্ট্রি হবে না’ বলে আটকে দিচ্ছেন। তখন সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক তার কাজ উদ্ধারের জন্য সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের লোকদের সঙ্গে কথা শেষে ১০ হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকা দিলেই সবকিছু সমাধান হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হচ্ছে জমি রেজিস্ট্রি।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের লাইসেন্স বাতিলের আশংকায় নাম-প্রকাশে অনিচ্ছুক দলিল লেখকরা বলেন, আমরা বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অনেক যাচাই-বাছাই করে একটা দলিল তৈরি করে সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে দাখিল করার পর তিনি খুঁজতে থাকেন, কোথাও কোনো ত্রুটি পাওয়া যায় কিনা। পর্চার কাগজের ফটোকপি দিলে সেটা দেখে দলিল করেন না।

তবে সেখানে জমির পরিমাণ ও টাকার অংকের পরিমাণ অনুযায়ী উৎকোচ দিলেই করা যায় রেজিস্ট্রি। কোনো জমিতে বাড়ি উল্লেখ থাকলে সেই জমির আংশিক বিক্রি করতে গেলেই তিনি বলেন ৬% উৎকোচ কর দিতে হবে। গুটুদিয়া ইউনিয়নের কোনো জমি (প্লট বিবেচনায়) হলেই বলবে, ২% ভ্যাট দিতে হবে, তা-না হলে রেজিস্ট্রি বন্ধ।

বিষয়টি নিয়ে অধিকতর অনুসন্ধান করলে জানা যায়, সম্প্রতি কয়েকটি দলিল রেজিস্ট্রি বাবদ নেয়া হয়েছে লাখ লাখ টাকা। তার মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল উলা মৌজার ২টি দলিল করা হয়েছে যার মূল্য ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সেখান থেকে উৎকোচ গ্রহণ করা হয়েছে ৩০ হাজার টাকা এমনটাই জানিয়েছেন গ্রহীতা। গত ৩ মে রেজিস্ট্রি না হওয়ার ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বয়োবৃদ্ধ বলেন আমার কাছে অনেক টাকা চেয়েছিল।

আমরা গরীব মানুষ তাই ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম কিন্তু তাতে হবে না, টাকা ফেরত দিয়েছে এখন রেজিস্ট্রি না করে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের জামান নামের এক ব্যক্তি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে দলিল করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার এসএ পর্চায় ইমান নামের জায়গায় ই বাদ পড়ে যায়। সরাসরি সাব রেজিস্ট্রারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন মামলা লড়তে গেলে উকিলের সাথে যোগাযোগ করতে হয়। পরবর্তীতে তার কাছের লোকের সাথে যোগাযোগ করে টাকা দেয়ার সাথেই জমি রেজিস্ট্রি হয়ে যায়। এছাড়াও অনেকে ঘুষের টাকা না দিতে পারায় জমি রেজিস্ট্রি করতে পারছে না। এতে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।

তথ্য দাতাদের দলিল নাম্বারসহ এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত থাকলেও ভবিষ্যৎ দলিল করার নিরাপত্তার স্বার্থে তা প্রকাশ করা হলোনা।

সাব-রেজিষ্ট্রার মো. নাহিদুজ্জামান তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অনেকের হয়তো কাজ করে দেয়া হয় না তারাই বাইরে গিয়ে কুৎসা রটায়। এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য জেলা রেজিস্ট্রার মোহা. আব্দুল হাফিজের সাথে একাধিকবার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার জন্য চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পরবর্তীতে হোয়াটসএ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তার কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য জেলা প্রশাসকের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) আরিফুল ইসলাম কোন মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে বলেন ডিসি স্যার ঢাকাতে।

Share.
Exit mobile version