বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর ঝুমঝুমপুর বিসিক শিল্পনগরীসহ আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি চাঁদাবাজ সিণ্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এ চক্রের সদস্যরা শুধু চাঁদাবাজিই নয়, মাদক কারবারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তাদের অপকর্মে যেই বাঁধা দিচ্ছে তাকে নানাভাবে হয়রাণি করা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি বুলেটের নেতৃত্বে এই চাঁদাবাজ চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বাঁচতে শাসক দলের জেলার শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর ওই ঝুমঝুমপুর বিসিক এলাকার ব্যবসায়ীরা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর ঝুমঝুমপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির কমিটি পরিবর্তন হয়। পরিবর্তনের পর ওই বাজারের নাইটগার্ড মহিউদ্দিনকে চাকরিচুত্য করা হয়।
চাকরিচুত্য নাইটগার্ড মহিউদ্দিন জানান, আমি যে সামান্য বেতন পাই, তা দিয়েই আমার সংসার চলে।
বাজার কমিটি আমাকে জানায়, চাকরি করতে হলে প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা ফান্ডে জমা রাখতে হবে। তা না হলে চাকরি করা যাবে না। আমার হিসাব বেতন-কড়ি বুঝে না দিয়েই আমাকে চাকরিচুত্য করা হয়। আমি আমার বেতন কড়ির হিসাব বুঝে নিতে গেলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়াসহ বাড়িতে এসে হামলা চালানোসহ আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সোমবার বেলা ১১টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত আমার বাড়িতে এসে হামলা চালায়। সে সময় বাড়িতে নারীরাসহ আশপাশের মহিলা এগিয়ে এসে দুর্বৃত্তদের নিবারণ করে।
বাড়িতে হামলার বিষয়ে মহিউদ্দিনের স্ত্রী অভিযোগ করেন, বেলা ১১টার দিকে বুলেটের নেতৃত্বে ইরান, ইমন, আলিম, জসিমসহ একদল লোক তার বাড়িতে হামলা চালায়। সে সময় প্রতিবেশিরা ছুটে এসে তাদের রক্ষা করে। সন্ত্রাসীরা যাওয়ার সময় আমার স্বামী ও সন্তানকে হত্যা করার হুমকি দেয়। তারা থানায় আমার স্বামী ও সন্তানের নামে মিথ্যা অভিযোগও দিয়েছে।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ফতেপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি বুলেটের নেতৃত্বে একটি নতুন দুর্বৃত্ত চক্র সক্রিয় হয়েছে। তারা এলাকায় মাদক কারবারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে সাগর নামে এক যুবককে দিয়ে এ মাদক কারবার চালাচ্ছে বুলেট। সূত্র জানায়, বুলেট ওই এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের জন্য তার বিরুদ্ধে কেউ যাতে কথা বলতে না পারে তার জন্য বিভিন্নভাবে মানুষের ভয়ভীতি দেখানোসহ নানা অপরাধমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি আজিম হোসেন বলেন, বুলেট ভালো ছেলে। নামাজ পড়ে কারো সাথে কোন গন্ডগোল করে না।
তবে কোতয়ালি থানা বিএনপির সভাপতি আনজারুল হক খোকন এলাকার মানুষদের বলেন, ওদের পরিবার ভালো না আমি কথা বলি না।
এ ব্যাপারে এলাকার মানুষ শাসক দলের জেলা ও থানা পর্যায়ের নেতাদের হস্তক্ষেপ কমনা করেছেন।
