ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ঘর থেকে ডলি বেগম (৩২) এবং তার দুই শিশু সন্তান ফাতেমা ও ওমরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ(শনিবার) বেলা দেড়টার দিকে গুটুদিয়া ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামের মান্নান সরদারের ঘর থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।
ফাতেমার বয়স ছয় বছর ও ওমরের বয়স সাত মাস। তাদের লাশ ঘরের খাটের ওপর পড়ে ছিল। আর ডলি বেগমের লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল। পুলিশ ও স্থানীয়রা ধারণা করছেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে দুই সন্তানকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছেন ডলি বেগম।
স্থানীয়রা জানান, ডলি বেগমের স্বামী মান্নান সরদার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন। শনিবার সকাল আটটার দিকে তিনি বাড়ি থেকে খুলনা শহরে যান। তবে গতকাল শনিবার ছুটি থাকার কারণে ডুমুরিয়া বাজারের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি বাড়িতে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। এ সময় তিনি তার মা ও স্ত্রী-সন্তানদের ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে পাশে চাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে যান। সেখানে তার স্ত্রী ও সন্তানদের না পেয়ে মাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। পরে হাসুয়া দিয়ে দরজার খিল খুলে স্ত্রী ডলি বেগমকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং তার শিশু সন্তান ফাতেমা ও ওমরের লাশ ঘরে পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে এ ঘটনা জানতে পারেন। সাথে সাথে স্থানীয়দের সহায়তায় দুই সন্তানকে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান মান্নান সরদার। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু দুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকাবাসীর ধারণা, পারিবারিক কারণে সকালে শাশুড়ির সঙ্গে ডলি বেগমের সামান্য ঝগড়া হয়েছিল। হয়তো তার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় গুটুদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইজ্জত আলী বলেন, ডলি বেগমের স্বামী আব্দুল মান্নানের সঙ্গে সবার ভালো সম্পর্ক। তার স্ত্রী একটু জেদি প্রকৃতির হলেও প্রতিবেশী হিসেবে তাকে কখনো তার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া অথবা রাগারাগি করতে দেখিনি। তবে, কী কারণে এ রকম ঘটনা ঘটল বুঝতে পারছি না।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা বলেন, লাশ তিনটি পুলিশের হেফাজতে নিয়ে সুরতহাল করা হচ্ছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। কেন ও কী কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধে তারা মারা গেছেন। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।
খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান বলেন, সবকিছু দেখে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি- মা ডলি বেগম আত্মহত্যা করেছেন। তবে আত্মহত্যার আগে তিনি তার দুই শিশু সন্তানকে হত্যা করেন। এ ব্যাপারে তদন্ত হচ্ছে।
শিরোনাম:
- ইউনূস-মোদীর প্রথম বৈঠক
- ‘যশোর গণহত্যা’ শহিদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি
- শখের মোটরসাইকেলে প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের
- ফ্যাসিস্টরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে : অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
- আজও একশ্রেণীর মানুষ দুর্নীতি, রাহাজানি, চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে
- যশোর হার্ট ফাউণ্ডেশনের উদ্যোগে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সাথে মতবিনিময়
- যশোরে জুসের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ
- শার্শায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২