কাজী নূর
আমরা এখনো বিশ্বাস করতে পারিনা তিনি নেই, আরজু ভাই নেই। তিনি আছেন আমাদের চিন্তা-চেতনা-অনুভবে। এভাবেই বিকেলে গড়িয়ে রাত অবধি স্মৃতিচারণ চলে জয়তী সোসাইটির মিলনায়তনে। আর এ আয়োজন ছিল এক স্বপ্নপথিককে নিয়ে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহৎ নারী উন্নয়ন সংগঠন জয়তী সোসাইটি আয়োজন করে তাদেরই অভিভাবকতুল্য প্রতিষ্ঠান দেশের অন্যতম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউণ্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সদ্য প্রয়াত আজাদুল কবীর আরজুর স্মরণে ‘সমাজসেবায় নিবেদিত এক আলোকবর্তিকা আজ স্মৃতির পাতায় অম্লান’ স্মরণানুষ্ঠানের।
জয়তী সোসাইটির সভাপতি কাজী লুৎফুন্নেসার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অশ্রুসিক্ত স্মরণে আরজুকে নিয়ে আলোচনা করেন, মরহুমের বড় মেয়ে নিবেদিতা নার্গিস। পিতার স্মরণানুষ্ঠানে তাঁর ‘আব্বা আমাদের কাছে ছিলেন জীবন্ত পুতুল, আমাদের তার সাথে খেলা, ঈদে বাজার থেকে নেইলপলিশ কিনে পিতার নখে মাখানো, চকলেটের ভাগ না দিয়ে খাওয়ার গল্পগুলো উপস্থিত সকলকে আপ্লুত করে।
আজাদুল কবীর আরজুর ছোট ভাই সাংস্কৃতিক কর্মী ও বাংলার ভোরের উপদেষ্টা সম্পাদক বড় ভাইকে নিয়ে বলতে গিয়ে একবাক্যে সকলকে বাস্তবতায় টেনে আনেন। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে উচ্চারণ করেন আমাদেরকে বিশ্বাস করতে দেন যে, আমাদের ভাই আর নেই।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্মৃতিচারণ করে জয়তী সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস ইভার স্বাগত বক্তব্যের পর আরজুর কর্মময় জীবন নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
জয়তী সোসাইটির ইউনিট ম্যানেজার বর্ণালী সরকারের উপস্থাপনায় অন্যান্যের মধ্যে স্মৃতিচারণ করেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক কামরুল ইসলাম, প্রোগ্রাম ডিরেক্টর কাজী মাজেদ নেওয়াজ, পরিচালক ঋণ কর্মসূচি আজিজুল হক, সমাজসেবক নাজিমুদ্দিন মোল্লা, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) বিশ্বজিৎ কুমার ঘোষ, উপ-পরিচালক (প্রশাসন) টমাস বিশ্বাস, জয়তী সোসাইটির ষাটোর্ধ্ব নারীসেবা কর্মসূচির সদস্য গ্রামের কাগজ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, জয়তী সোসাইটির ফাইন্যান্স ম্যানেজার অসীম কুমার বিশ্বাস, প্রোগ্রাম ম্যানেজার রোকনুজ্জামান রোকন, ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম লাল্টু, ম্যানেজার (রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট) সুদীপ্ত প্লাবন, ইউনিট ম্যানেজার ফিরোজা খাতুন, নূরজাহান আক্তার, স্বাস্থ্য ম্যানেজার শামীমা খাতুন প্রমুখ।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বাংলার ভোর সম্পাদক সৈয়দ আবুল কালাম শামছুদ্দীনসহ মরহুমের পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন ও জয়তী সোসাইটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মীবৃন্দ।
এর আগে নিজের বক্তব্যে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর কাজী মাজেদ নেওয়াজ মরহুম আরজুর স্মৃতি রক্ষার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানান। শেষে মরহুম আজাদুল কবীর আরজুর রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন জয়তী সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম লাল্টু।
