হিমেল খান 
এ যেন দখলের শহর, যে যেমন পারছে তেমনিভাবে দখল করছে। কেউবা ফুটপাথ, কেউবা সড়ক আবার কেউবা সংড়ক সংলগ্ন উন্মুক্ত স্থান। এ চিত্র যশোর শহরের সর্বত্র।

এর ফলে দেশের প্রাচীন পৌরসভাগুলোর অন্যতম যশোর পৌরসভা দিন দিন হারাচ্ছে সৌন্দর্য্য। পরিণত হচ্ছে যানজটের শহরে। শনিবার দিনব্যাপি শহরময় ঘুরে পাওয়া গেছে দখলের নানারকম চিত্র। এর মধ্যে রয়েছে ব্যস্ত সড়ক দখল এবং বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণের মত অপকর্মের চিত্র। সেই সাথে রয়েছে ফুটপাথ দখল করে অবৈধ ব্যবসা ও পার্কিংয়ের কারবার।

এতে করে প্রতিনিয়ত বাড়ছে জনদুর্ভোগ। নগরবাসীর অভিযোগ, শহরের স্বাভাবিকৎভাবে চলাচল করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে দখলে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে বাণিজ্যিক এলাকায় স্থাপিত ক্লিনিক মালিক কর্তৃপক্ষ।

সড়ক ও ফুটপাত দখল
বিল্ডিং কোড না মেনে নির্মাণ

সমস্যা :
♦হাসপাতাল এরাকায় যানজট ও ভোগান্তি
♦বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা
♦দুর্ঘটনার ঝুঁকি

ট্রাফিক আফিস সংলগ্ন পুনাক মার্কে টের সামনের চিত্র

যশোর পৌরসভার আয়তন ১৪.৭২ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে ৯টি ওয়ার্ড। শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে গেছে। বিশেষ করে হাসপাতাল, ক্লিনিক, বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে পার্কিংয়ের জন্য তৈরি ঢালাই অনেক ক্ষেত্রে সড়কের ভেতরে পর্যন্ত বিস্তৃত।

এতে কার্যত সড়কের প্রশস্ততা যাচ্ছে কমে। যা যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শহরের সড়ক ব্যবস্থাপনা শুধু যান চলাচলের জন্য নয়, জরুরি সেবার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু যশোর শহরে সেই মৌলিক কাঠামোই ভেঙে পড়ছে। দড়াটানা হাসপাতাল মোড় ও জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় প্রায়ই অ্যাম্বুলেন্স আটকে থাকতে দেখা যায়, যা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নতুন ভবন নির্মাণের সময় নির্ধারিত নকশা ও বিল্ডিং কোড না মেনে পার্কিংয়ের ঢালাই সড়কের সাথে মিলিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে ফুটপাত এবং সড়ক উভয়ই দখল হয়ে যাচ্ছে।

শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানার হাসপাতাল মোড়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক তাদের সুবিধা মতো যাতায়াতের জন্য পার্কিংয়ের ঢালাই সড়কের সাথে মিলিয়ে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতাল আল শেফা হাসপাতাল ও ডায়গস্টিক সেন্টারের ম্যানেজিং ডিরেক্টোর চঞ্চল হোসাইন বলেন, রোগীদের যাতায়াত সহজ করতে তারা এ ব্যবস্থা নিয়েছেন।

পাশাপাশি আরেকটি প্রতিষ্ঠান ল্যাব এইড’র চিত্রও একই। সাইফুল ইসলাম নামে এই প্রতিষ্ঠানের দ¦ায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তারা হাসপাতালের পার্কিংয়ের জন্য সরকারি রাস্তা দখল করে রেখেছেন।

এর থেকে সামান্য কয়েক গজ দূরে অবস্থিত যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট্য জেনারেল হাসপাতাল। যেখানে প্রতিদিন কয়েকশ রোগী আসেন চিকিৎসা নিতে। কিন্তু সড়ক সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই অ্যাম্বুলেন্সসহ অনান্য যানবন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

শুধু তাই নয়, শহরের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত দখল করে রাখা হচ্ছে নির্মাণসামগ্রি। শহরের ৭ নং ওয়ার্ডের বেজপাড়া চিরুনিকল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী ফুটপাতের ওপর ইট, বালি রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এতে পথচারীরা বাধ্য হচ্ছেন সড়ক দিয়ে চলাচল করতে, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

সমাধান :
♦বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন
♦সড়ক ফুটপাত দখলমুক্ত করা
♦পরিকল্পিত পার্কিং ব্যবস্থা
♦নিয়মিত তদারকি ও অভিযান

বেজপাড়া চিরুনিকল এলাকার ফুটপাত দখল

কয়েকজন ভবন মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, প্রয়োজনের তাগিদেই তারা সড়কের কিছু অংশ ব্যবহার করছেন। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলে তা সরিয়ে নেয়র কথা জানান তারা।

নগরবাসীর অভিযোগ, এভাবে সড়ক দখল অব্যাহত থাকলে শহরের যান চলাচল আরও সংকটের মুখে পড়বে। দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং বিকল্প পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে বলে দাবি করছেন সচেতন মহল।

যশোর ট্রাফিক ফাঁড়ির ইনর্চাজ জানান, যশোর শহরটি চারদিক থেকে হাইওয়ে বেষ্টিত হওয়ায় শহরে যানবাহনের চাপ বেশি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় অনেক গাড়ি সড়কের ওপরই রাখা হয়। যা যানজটের অন্যতম কারণ।

এদিকে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, শহরকে যানজটমুক্ত করতে বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এখন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

নগরবাসীর দাবি, অবিলম্বে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করে বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় যশোর শহরের যানজট ও জনদুর্ভোগ ভবিষ্যতে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।

 

Share.
Exit mobile version