সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে গাজী শাহ আলমকে ঘিরে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও সীমান্তপথে অবৈধ কর্মকাণ্ডের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দলীয় পরিচয় বদলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক এমপি জগলুল হায়দারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে শাহ আলম আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আওয়ামী লীগের পরিচয় ত্যাগ করে নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন।
পরে সাতক্ষীরা জেলা জাসাসের কমিটিতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ ওঠে। যদিও জমি দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ওই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে বহিস্কার করা হয়। অবশ্য এতেও থেমে থাকেননি তিনি। তার নেতৃত্বে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একটি সিন্ডিকেট কৈখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় লুটপাট, জমি দখল ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে।
৫ আগস্টের পরপরই পরানপুর বাজারে তিনটি দোকানে লুটপাটের ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী কালিন্দী নদীপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, স্থলপথের ঝুঁকি এড়াতে নৌপথ ব্যবহার করে বিজিবির নজর এড়িয়ে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে সীমান্তপথে অবৈধভাবে গরু পারাপারের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ ধরনের অভিযোগে তাকে “গরু চোর” হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাবেক এমপি জগলুল হায়দারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিভিন্ন ছবি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন শাহ আলম। যদিও সম্প্রতি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এসব ছবি সরিয়ে ফেলেছেন।
প্রতিবেদকের হাতে তার আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের একটি রশিদও এসেছে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, শাহ আলম একজন সুবিধাবাদী ব্যক্তি, যিনি ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করেন। তাদের মতে, “যে দল ক্ষমতায় থাকে, তিনি সেই দলের পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করেন।”
এলাকাবাসীর দাবি, তার কর্মকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা দ্রুত তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শাহ আলম তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

