বাংলার ভোর প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খবরে যশোর শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে হঠাৎ ভিড় বেড়েছে। সকাল থেকেই মোটরসাইকেল চালকদের লাইন দিতে দেখা গেছে। অনেকেই বাইকের ট্যাঙ্ক ‘ফুল’ করে পেট্রোল ও অকটেন কিনছেন।

শহরের মণিহার চত্বর এলাকার একটি পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি মোটরসাইকেল ৬ থেকে ৭ মিনিট দাঁড়িয়ে ট্যাঙ্ক পূর্ণ করে তেল নিচ্ছে। লাইনে অপেক্ষমাণ অধিকাংশ চালকই ভবিষ্যতে দাম বাড়তে পারে-এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
হঠাৎ ট্যাঙ্ক ভর্তি পেট্রোল ও অকটেন নিচ্ছেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শরিফুল ইসলাম নামে যুবক বলেন, দাম বাড়তে পারে শুনে নিচ্ছি। ফুল ট্যাঙ্ক তেলে কতদিন চালাতে পারবেন বা হুজুগে কিনছেন কি না-এমন প্রশ্নে তিনি হেসে বলেন, একই কারণে সবাই কিনছে।

মেহেদি হাসান নামে এক বাইক চালক বলেন, যুদ্ধ বেঁধেছে মধ্যপ্রাচ্যে আর চিন্তা করতে হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশে বসে। তেল ব্যবসায়িরা তো সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। এবারের এই সুযোগ তারা যেন কাজে লাগাতে না পারে সে জন্য প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে।

পাম্পের এক কর্মী কিছুটা আক্ষেপের সুরে বলেন, অনেকে ১৪ থেকে ১৫ লিটার ফুল ট্যাঙ্ক নিচ্ছেন। তেল শেষ হলে মনে হয় বাইক ধুয়ে-মুছে ঘরে তুলে রাখবেন!

সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলা-পাল্টা হামলার দ্বিতীয় দিনে ইরান বহির্বিশ্বে তেল পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

বিশ্ববাজারে সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এ রুট বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে-এমন আশঙ্কা থেকেই যশোরের পাম্পগুলোতে ভিড় বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে এবং আপাতত সংকটের আশঙ্কা নেই।

বর্তমানে দেশে প্রতি লিটার পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির গুঞ্জনেই ভোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাম্প মালিকরা বলছেন, এখনো সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হলে সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে। তারা অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল মজুদ না করে স্বাভাবিকভাবে কেনাকাটার আহ্বান জানিয়েছেন।

আফিল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শাহিনুর রহমান বলেন, এপ্রিল থেকে তেলের দাম বাড়তে পারে। যে পরিমাণ পেট্রোল আছে তা ২৮ দিন, ডিজেল ১৪ দিন মত চলতে পারে। আপাতত যুদ্ধের কোনো প্রভাব পড়বে না আশা করা যায়।

Share.
Exit mobile version