বাংলার ভোর প্রতিবেদক
পিতার স্মৃতিবিজড়িত যশোরের সেই উলাশী-যদুনাথপুরের খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি কোদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে এই কাজের উদ্বোধন করেন।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে খাল খননের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলে সকাল থেকেই স্থানীয়দের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উলাশী খাল দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল।
এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট তৈরি হতো। খাল খনন শুরু হওয়ায় তারা আশাবাদী যে এলাকার পানি ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান আসবে। খাল খনন উদ্বোধনের পরে খাল পাড়েই স্থানীয় অংশিজনদের নিয়ে সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
নেতাকর্মীরা জানান, ৫০ বছর আগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর নিজ হাতে কোদাল তুলে নিয়ে মাটি কেটে যশোরের শার্শা উপজেলার বেতনা নদীর সংযোগ উলাসী-যদুনাথপুরে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার খাল খননের উদ্বোধন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দলে দলে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননে অংশ নেন সাধারণ মানুষ। ৬ মাসে খাল খনন সফল হয়। ৬ মাস পর ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
উলাসী গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আবদুল বারিক মণ্ডল স্মৃতিচারণ করে বলেন, খাল খনন কর্মসূচির সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে করে এসে স্কুল মাঠে অবতরণ করেন। এরপর তিনি হেঁটে এসে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়িতে ভরেন। সেই ঝুড়িটি তিনি তার ভাই করিম বকস মণ্ডল মেম্বারের মাথায় তুলে দেন। এমনকি তার ভাইয়ের মাথার টোকাও (মাথাল) রাষ্ট্রপতি নিজেই পরে নেন। খাল খননের উদ্বোধনী দিনে সেখানে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা এ কাজে অংশ নেন। তিনি আরও জানান, হাজার হাজার মানুষ কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই খাল কাটার কাজে যুক্ত হয়েছিলেন। কাজের বিনিময়ে তাদের শুধু দুপুরে রুটি ও গুড় দেয়া হতো।
খালের পাড়ে একতালা ওই ভবনে রুটি তৈরি করা হতো, আর সেটাই খেয়ে সবাই কাজ চালিয়ে যেতেন। রাষ্ট্রপতি জিয়ার প্রতি ভালোবাসা থেকেই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কাজে অংশ নিয়েছিল। পিতার মতো ছেলেও এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। সেই সময়ে তরুণ ছিলাম জিয়ার সঙ্গে খাল কাটায় অংশ নিয়েছিলাম, এখন তো বয়সের ভারে নড়াচড়া করতে পারি না। আগের মতো গায়ে জোর থাকলে জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের সাথেও খাল কাটায় অংশ নিতাম।’ এই খাল খনন কার্যক্রমকে স্থানীয়রা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এখন তাদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি যেন শুধু উদ্বোধনে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব সুফল নিয়ে আসে মাঠপর্যায়ে।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এয়ারলাইন্সটি যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে নামার পরই সেখানে অপেক্ষমাণ হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার অভিবাদন গ্রহণ করেন। সেখানে তাকে স্বাগত জানান যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
এরপর তিনি সড়কপথে নির্ধারিত বাসে চড়ে শার্শা উপজেলার উলশীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে যশোর বিমানবন্দর থেকে শার্শা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
