বাংলার ভোর প্রতিবেদক

যশোরে শুরু হয়েছে মৌসুমের তীব্র দাবদাহ। গত কয়েকদিনের প্রচণ্ড গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও পোল্ট্রি শিল্পে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলায় তীব্র দাবদাহের কবলে পড়ে ২ জন কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেশবপুরের বরেঙ্গা গ্রামের কলাতলা বিলে ধান কাটার সময় হাসেম আলী সর্দার ও অভয়নগর উপজেলার রফিক উদ্দীন মারা যান। চিকিৎসকরা একে হিট স্ট্রোক বলছেন।

দাবদাহের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ ও কৃষকরা। স্থানীয় কৃষক হারুন আর রশিদ জানান, রোদ এতই কড়া যে মাঠে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যাচ্ছে না। বৃষ্টির খুব দরকার। ধান উঠার পর বৃষ্টি হলে আমাদের জন্য আশীর্বাদ হতো। গরমে পটল ও পুঁইশাকের মতো সবজি ক্ষেতেই পচে যাচ্ছে।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, বোরো মৌসুম শেষ দিকে হওয়ায় ধানের খুব একটা ক্ষতি না হলেও তীব্র রোদে পাটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তীব্র গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা। খামারি হাবিবুর রহমান জানান, মুরগি গরমে রাখা দায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ৪ থেকে ৫ কেজি ওজনের মুরগিগুলো মারা যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা খামারে ফ্যান ব্যবহার করছি। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্যান চলে না। ফলে গরমে মুরগি মারা যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। লোডশেডিং আমাদের পথে বসিয়ে দিচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশারফ হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত ফসলের ব্যাপক কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে এবং পর্যাপ্ত সেচ না পেলে আগামতের পাটের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কঠিন হয়ে পড়বে। আম ও কাঁঠালের মতো মৌসুমি ফলগুলো রোদে শুকিয়ে ঝরে পড়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই চাষিদের পরিমিত সেচ ও পরিচর্যার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

যশোর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রোববারের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, গত বছর এই দিনে তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি কম থাকা সত্ত্বেও আদ্রতা ও ভ্যাপসা গরমের কারণে অস্বস্তি বেশি অনুভূত হচ্ছে।

তবে আশার কথা শুনিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। রোববার রাতে বা সোমবার যশোর ও এর আশপাশের অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সাথে কালবৈশাখী ঝড় হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক থেকে রক্ষা পেতে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, অপ্রয়োজনে রোদে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। মাঠে কাজ করার সময় ছাতা ব্যবহার করুন এবং ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিন। পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন পান করুন। মাথা ঘোরা বা বমি ভাব হলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

Share.
Exit mobile version