বাংলার ভোর প্রতিবেদক
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে’ তা বিক্রি করার মহোৎসব চলছে। এসব জমির মাটি অবৈধ ট্রাক্টর ও ড্রামট্রাক দিয়ে বহন করে ইটভাটাসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে কতিপয় দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে গোপন চুক্তির মাধ্যমে অবৈধ এই কারবার করে ‘মাটিখেকোরা’ হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। আর দিনদিন ফসলের জমি হারাচ্ছে কৃষক।
সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের নাকিলা উত্তর পাড়া ও বহুড়া দক্ষিণপাড়া গ্রামে তিনটি স্থানে পুকুর বা ঘের খননের নামে মাটি কাটার মহোৎসব মেতে উঠেছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে যশোরের শার্শা উপজেলার বেলতলা এলাকার যুবলীগ নেতা নুর ইসলাম, নাকিলা গ্রামের কিতাব আলী, পুটুনি গ্রামের রাশেদসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি এই ব্যবসায় আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনেছেন। এতে করে যেমন ক্ষতি হচ্ছে কৃষকের, তেমনি নষ্ট হচ্ছে কাঁচা-পাকা রাস্তা ও ধুলাবালিতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। সামান্য বৃষ্টি হলে পাকা রাস্তা হয়ে যায় কাদাময়, যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে প্রতিনিয়ত।
স্থানীয়রা বলছেন, অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করছে। প্রশাসনের তদারকির অভাবে দিনরাত সমান তালে চলছে কৃষি জমির মাটি কাটার মহোৎসব। এ সংক্রান্ত আইনি বিধিনিষেধ থাকলেও কেউই তা মানছে না।
ফলে প্রতিদিন শত শত বিঘা কৃষি জমি হারিয়ে যাচ্ছে। কেউ আবার তিন ফসলি জমি অবৈধভাবে মাটি খনন করে পুকুর বানাচ্ছে। এতে যেমন জমি উর্বরশক্তি হারাচ্ছে তেমনি ফসল উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। জমি ৮ থেকে ১২ ফুট গভীর করে ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। এদিকে মাটিখেকো চক্রটি এমন পরিবেশ বিধ্বংসী কাণ্ডে লিপ্ত থাকলেও প্রশাসন নিরবতা পালন করছে বলে ভুক্তভোগিরা জানিয়েছে।
এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরিফুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে কৃষি জমি বা ঘের খননের নামে মাটি কেটে বিক্রি করার সুযোগ নেই, যদি কেউ এ কাজে জড়িত থাকে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
