শরিফুল ইসলাম
যশোর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মুল্লুক চাঁদ। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও তরুণদের আস্থাকে পুঁজি করে তিনি ইতোমধ্যে নগর রাজনীতিতে দৃশ্যমান ও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রফিকুল ইসলাম মুল্লুক চাঁদের রাজনৈতিক বেড়ে ওঠার পেছনে রয়েছে সুদীর্ঘ পারিবারিক ঐতিহ্য। তার বাবা শহিদুল ইসলাম নয়ন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যশোর জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং তৃণমূলভিত্তিক নেতৃত্ব, সংগঠন পরিচালনায় দক্ষতা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার জন্য স্থানীয়ভাবে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

সেই রাজনৈতিক পরিবেশেই রফিকুল ইসলাম মুল্লুক চাঁদের বেড়ে ওঠা; ছোটবেলা থেকেই তিনি রাজনৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও জনসেবার আদর্শে অনুপ্রাণিত। সেই সাথে যশোরের প্রথম সারির সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তারা সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়ে আসছে। স্থানীয়দের মতে, ব্যবসায়িক গ্রহণযোগ্যতা ও সামাজিক আস্থার ভিত্তি তার জনসমর্থনকে আরও সুদৃঢ় করেছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অভিজ্ঞতা তাকে নগর ব্যবস্থাপনায় বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক করবে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শিক্ষাজীবন থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, উদ্যমী ও সংগঠকপ্রবণ। পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি বিতর্ক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তোলে। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম পরিচালনা এবং তরুণদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি যুবসমাজের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্টার্টআপ উদ্যোগে সহায়তা ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। অনেক তরুণই তাকে তাদের অনুপ্রেরণা ও নেতৃত্বের মডেল হিসেবে উল্লেখ করেন।

যার ফলশ্রুতিতেই দলীয় নেতৃবৃন্দ তাকে যশোর নগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। যে দায়িত্ব পালনে তিনি দলীয় কার্যক্রম সুসংগঠিত করা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে তার সক্রিয় ও সমন্বয়মূলক ভূমিকা রয়েছে। সাংগঠনিক দৃঢ়তা, ধৈর্য ও সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছে।

নগরবাসীর সঙ্গে ধারাবাহিক গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে তিনি নাগরিক সমস্যাগুলো সরাসরি শুনছেন এবং সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরছেন। পানি নিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, টেকসই সড়ক সংস্কার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর গঠন, যানজট নিরসন, ডিজিটাল সেবা চালু এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠাকে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নাগরিকবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “রাজনীতি আমার পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ হলেও জনগণের আস্থা অর্জনই সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি একটি স্বচ্ছ, আধুনিক ও মানবিক নগর গড়তে চাই, যেখানে উন্নয়ন হবে অংশগ্রহণমূলক এবং নাগরিক সেবাই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য, ব্যবসায়িক গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, মেধা ও তরুণ সমাজের সমর্থন-সব মিলিয়ে তিনি মনোনয়নের দৌঁড়ে এগিয়ে থাকবেন এটাই ধারণা দলীয় নেতাকর্মী সমর্থকদের। এখন দল কি সিদ্ধান্ত নেয়, তার অপেক্ষায় নগরবাসী।

Share.
Exit mobile version