বাংলার ভোর প্রতিবেদক
আগামী ২ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। পরীক্ষা শুরু হতে বাকি মাত্র দুই দিন। এরই মধ্যে যশোর শহরের আলহাজ¦ মতিউর রহমান ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার একাধিক পরীক্ষার্থীর প্রবেশত্রে বিষয় ভুল ধরা পড়ায় চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত অর্থনীতি বিষয়ের পরিবর্তে প্রবেশপত্রে পৌরনীতি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ জানালে দ্রুত সমাধানের আশ্বাসের বদলে তিনি বলেছেন, দোয়া করে দিচ্ছি সব পাস হবে। শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষকের এমন মন্তব্যে তাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, সমস্যাটি একজন বা দুজনের নয়। অন্তত ২৫ জন পরীক্ষার্থীর প্রবেশ পত্রে একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য বিষয়টি ১১ জন পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ঘটেছে। তবে সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন মত থাকলেও বিষয় ভুলের অভিযোগ অস্বীকার করেনি কর্তৃপক্ষ।
একই সাথে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে প্রবেশপত্রগুলি সংশোধনে ইতিমধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে তারা বিষয়টি এখনো জানেনা। এ অবস্থায় আরো বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা।
ছুরাইয়া ইয়াসমিন নামের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার পর থেকে প্রথম বর্ষ, প্রি-টেস্টসহ সব অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় তারা অর্থনীতি বিষয়ে অংশ নিয়েছেন। একই বিষয়কে সামনে রেখে এবারের ফাজিল পরীক্ষার প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু বোর্ড থেকে প্রবেশপত্র হাতে পাওয়ার পর সেখানে অর্থনীতির পরিবর্তে পৌরনীতি বিষয় দেখে তারা হতাশাগ্রস্থ।
সাথী ইসলাম নামের আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, এতদিন আমরা অর্থনীতি পড়েছি। কিন্তু প্রবেশপত্রে পৌরনীতি বিষয় দেখছি। পরীক্ষা শুরু হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি। এ বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানালে তিনি সমাধান না করে উল্টো বলেন, ‘এটা কোনো বিষয় না, দোয়া করে দিচ্ছি, সব পাস হবে।’
শিক্ষার্থীরা বলেন, বিষয়টি দ্রুত সংশোধনের অনুরোধ জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিতে তারা দেখেননি।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। টিটোন নামের এক অভিভাবকের অভিযোগ, ফরম পূরণের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভুলের দায় কোনভাবেই শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো উচিত নয়।
শিমুল হোসেন নামে আরেক অভিভাবক বলেন, ফরম পূরণের পুরো কাজই প্রতিষ্ঠান থেকে করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এসব তথ্য বোর্ডে পাঠায় না। বিষয় পরিবর্তনের সম্পূর্ণ দায় প্রতিষ্ঠানের।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা একেবারে সামনে। এখন সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে আলহাজ¦ মতিউর রহমান ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আশা করছি, আগামীকালের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী তিনি ‘দোয়া করে দিচ্ছি, সব পাস হবে’ মন্তব্য করেছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ফারুক আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাছে কোনো আবেদন বা তথ্য আসেনি। আবেদন পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একদিকে প্রধান শিক্ষকের দাবি, বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষা বোর্ড বলছে, তাদের কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন পৌঁছায়নি। দুই পক্ষের এমন বক্তব্যে পরিস্থিতি নিয়ে আরও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার আগে এ সংকট সমাধান নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন অভিভাবকরা।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত এডমিট কার্ডের ভুল সংশোধন করে নির্ধারিত বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভুলের কারণে একদল পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
আলহাজ¦ মতিউর রহমান ফাজিল মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে এ বছর এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২৬ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।
