শেখ জালাল
যশোরের প্রবীণ সাংবাদিক ও দৈনিক লোকসমাজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টুর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো :
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দলের ভেতরে গজিয়ে ওঠা সুবিধাবাদী ও হঠাৎ কোটিপতি হওয়া নেতাদের বিষয়ে তার কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।
আনোয়ারুল কবির নান্টু তার ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেন, “দয়া করে পণ্ডিত বলে তাচ্ছিল্য করবেন না। বাস্তবতা অনুভব করবেন। দলকে যদি বাঁচাতে চান তাহলে সবার আগে ২৪-এর ৫ আগস্ট পরবর্তী কোটিপতি হওয়া নেতাদের দল থেকে বের করে দেন। এরা আগামীতে দলও বেঁচে দেবে। ফলাফল বলে এবার বায়না নিয়েছে।”
তার এই পোস্টের নিচে মন্তব্যের ঘরে ক্ষোভ ও সমর্থনের বন্যা বয়ে গেছে। পাঠকদের জন্য উল্লেখযোগ্য মন্তব্যগুলো নিচে
তুলে ধরা হলো:
সংশ্লিষ্ট পোস্টে গোলাম আহমেদ বিষয়টিকে ‘যথার্থ আত্মসমালোচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সবুর রানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দলের কথিত সুবিধাবাদীরাই দলের বেশি ক্ষতি করেছে, এখনই লাগাম টানতে হবে।” সাইফুল ইসলাম, হারুনর রশিদ, জয়দেব চক্রবর্তী, মুজিবুর রহমান ও সাইফুর রহমান সাইফ এই প্রস্তাবের সাথে শতভাগ একমত পোষণ করেছেন।
বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?
পুরো পরিস্থিতি নিয়ে এ কে শরফুদ্দৌলা ছটলু প্রশ্ন তোলেন, “অপ্রিয় সত্য বললেও বিড়ালের গলায় ঘণ্টাটা বাঁধবে কে?”
রিটন জামান এবং সুজন খালেদ বিন-আলী আহমেদ যশোরের স্থানীয় রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দলের কিছু নেতার আত্মীয়-পরিজন ও চাটুকারদের অতি বাড়াবাড়িতে সাধারণ মানুষ ত্যক্ত-বিরক্ত। তারা জননেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রতি অনুরোধ জানান যেন এসব সুবিধাবাদীরা সাধারণ মানুষের ওপর ছড়ি ঘোরাতে না পারে।
অন্যদিকে মজনুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল, বেল্লাল হোসেন সাগর, রকিব উদ্দীন মুন্সী, আনোয়ার হোসেন এবং ফিরোজা বুলবুল কলি মনে করেন, এটিই সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ।
তবে খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েল কিছুটা সংশয় প্রকাশ করে বলেন, “ঠগ বাছতে গেলে গাঁ উজাড় হওয়ার উপক্রম হবে।”
কঠোর সমালোচনার সুরে হারুন হাফিজ বলেন, “জিয়া, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দলকে বাঁচাতে হলে মন্দ কাজের সমালোচনা করতেই হবে। নেতার তোষামোদ করা কর্মীর কাজ নয়।”
মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন যে, শার্শায় অনেক ‘বেইমান’ দলের মধ্যে দলবাজি করছে। পারভেজ মাহমুদ যশোরের নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করে বলেন, মুখোশের আড়ালে থাকা বেইমানদের চিহ্নিত করতে একটি ‘ড্রাস্টিক অ্যানালাইসিস’ দরকার।
তদন্ত ও জবাবদিহিতার দাবি তুলে মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, “ইতিহাস বলে, অভ্যন্তরীণ অনিয়ম উপেক্ষা করলে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ে।”
হাসিবুর রহমান শামীম ও বোরহান উদ্দিন জাকির এই বক্তব্যকে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব নিয়ে উদ্বেগ:
তুষার খন্দকার সরাসরি অভিযোগ করেন যে, চাঁদাবাজদের কারণেই খুলনা বিভাগে ধানের শীষের ভরাডুবি হয়েছে। মুকুরুল ইসলাম সহযোগী সংগঠনগুলোর সমালোচনা করে বলেন, বিল-বাঁওড় দখল ও জেলেদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে সুবিধা নেয়া নেতাদের সরিয়ে সৎ ও নিবেদিতপ্রাণদের নেতৃত্বে আনা জরুরি। বশির আহমেদ বকুল সতর্ক করে বলেন, এই সংস্কার না করলে দল অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
এছাড়া জিএম মিজানুর রহমান, আজাদ বিশ্বাস, বিশ্বাস সাগর, আমিনুল হক, ইসলাম বুলবুল, রাজু আহমেদ, মো. ইয়াসিন, গোলাম হাসান সনি, মীর সাজ্জাদ আলী সন্তোষ, মীর মঈন মুসা, কে এইচ শিশির ও জনি মোল্লাসহ অসংখ্য কর্মী-সমর্থক একবাক্যে এই শুদ্ধি অভিযানকে সমর্থন জানিয়েছেন।
নেতাকর্মীদের সাধারণ অভিমত হলো-আগামীর বাংলাদেশে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে দলের ভেতরকার ‘আবর্জনা’ পরিস্কারের কোনো বিকল্প নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই ক্ষোভ দলের নীতি-নির্ধারকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে দলকে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতে পারে।

