বাংলার ভোর প্রতিবেদক
আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে পরিবাবের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি নারী মর্যাদা বৃদ্ধি এবং ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড দিতে চায় বিএনপি। এই কার্ডের আওতায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে মাসিক দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা নগদ সহায়তা অথবা সমপরিমাণ খাদ্যসামগ্রি করা হবে। এর মাধ্যমে সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরার পাশাপাশি পুরুষের সাথে নারীরাও সংসার পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে পারবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আগামীতে দলটির পক্ষ থেকে নারীদের জন্য তাদের ভাবনা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কোন পুরুষ সদস্যের নামে হবে না, এটি পরিবারের নারী সদস্যদের নামে হবে। এই কার্ড পাওয়ার জন্য কাউকে বিএনপি করতে হবে। কাউকে একটি টাকা ঘুষ কিংবা এক কাপ চা খাওয়ানো লাগবে না।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মঙ্গলবার দিনব্যাপি সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণা করেন। শানতালা গ্রামের হিন্দু মুসলিমের ফুলের শুভেচ্ছা ও ভালো বাসায় সিক্ত হওয়ার মধ্য তিনি প্রচারণা শুরু করেন। প্রচারণার শুরুতে তিনি কাশিমপুর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান সাবেক সংসদ সদস্য আলী রেজা রাজু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইসহ প্রয়াত সকলকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। এ সময় তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
সেখানে পথসভায় স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক শ্রমিক নেতা শামসুর রহমান বলেন, আমরা এই গ্রামের হিন্দু মুসলিম একত্রে মিলে মিশে বসবাস করে আসছি। একটি রাজনৈতিক দল হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই। আমরা কোন বিভাজন চাই না। একাত্তরে আমি নিজে সেই দলের ভূমিকা দেখেছি। তাদের ভয়ে বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়েছিলাম। আমরা এমন বাংলাদেশ আর দেখতে চাই না। ডাকাতিয়া গ্রামে অপর একটি পথ সভায় স্থানীয় বাসিন্দা মনির উদ্দিন বলেন, আজকে একটি দল জান্নাতের টিকিট দেয়ার কথা বলে মানুষের মাঝে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে। ওই রাজনৈতিক দলের অতীত কর্মকান্ড আমাদের সকলের জানা আছে।
খোজারহাট গ্রামে গণসংযোগকালে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় গৃহবধূ নাসরিন আক্তারের। তিনি বলেন, বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডের বিষয় আমি ইতিমধ্যে আমার এলাকার উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জেনেছি। এটি বাস্তবায়ন হলে আমরা নারীরা অনেক উপকৃত হবো। বিশেষ করে কার্ডের মাধ্যমে নগদ টাকা পেলে ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার কাজে ব্যয় করতে পারবো। নিজেরাও সংসার চালানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারবো।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার বক্তৃতায় বলেন, আমরা আগামীতে কেমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, তার প্রমাণ গেল চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেখিয়ে দিয়েছি। সারাদেশের মতো যশোরেও পাড়া মহল্লায় পাহারা বসিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী থেকে শুরু করে সকল মত পথের মানুষের জানমাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়ি ঘরের সুরক্ষা দিয়েছি। বিএনপি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। বিএনপি কোন দিনই ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে মানুষের মধ্যে বিভেদ বিভাজন চায় না।
তিনি বলেন, বিএনপি মানুষের জীবন যাত্রা পাল্টে দিতে পারে। প্রতিশ্রুতি রক্ষার ইতিহাস বিএনপির আছে। অতীতে বিএনপি জনগণের সামনে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা বাস্তবায়ন করেছে। আমরা বন্ধ হওয়া উন্নয়নের চাকা সচল করতে চাই। কাশিমপুর ইউনিয়নের ভেঙে পড়া রাস্তার উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট চাই। আমার পিতা তরিকুল ইসলাম এই অঞ্চলের মেঠোপথ থেকে শুরু করে রাস্তা ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরের উন্নয়নের পাশাপাশি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর এই এলাকার মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত। আমি নতুন করে এলাকায় উন্নয়ন করতে চাই।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত কাশিমপুর বাজার, খোজারহাট, নওদা গ্রাম, ফুলতলা বাজার, ডহেরপাড়া, কিসমত এনায়েতনপুর, শালতা, ওসমানপুর, সরুইডাঙ্গা, রহেলাপুর, কেফায়েত নগর, শ্যামনগর এলাকায় গণসংযোগ করেন। তিনি ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের সাথে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি আগামী দিনে দেশ ও জনগণের জন্য বিএনপির ভাবনা এবং পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
দিনব্যাপি গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, কাশিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আয়ুব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের, ইউনিয়ন পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি কার্তিক দাস, সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর রায়হান তুহিন প্রমুখ।

