বাংলার ভোর প্রতিবেদক
সত্যিই অভূতপূর্ব! যেমন মঞ্চসজ্জা, আবহসংগীত, তেমনি দারুণ অভিনয়। মনে হচ্ছিল কিছু সময়ের জন্য বোধহয় ইউরোপ আমেরিকায় বসে থিয়েটার উপভোগ করছি। পূর্বে এমন বিজ্ঞান কল্পকাহিনী ভিত্তিক নাটক দেখেছি কেবল রাজধানী ঢাকার নাট্যমঞ্চে। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের যশোর মঞ্চনাটকে যে এতখানি এগিয়েছে আজ তা জানতে পারলাম ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ দেখার পর। এটি গর্ব করে বলার মতো বিষয় যে, রাজধানীর সাথে আমাদের যশোরও মঞ্চনাটকে এগিয়ে যাচ্ছে নিরব পথ পাড়ি দিয়ে।
কথাগুলো দৈনিক বাংলার ভোরকে বলছিলেন যশোরের সন্তান বর্তমানে ঢাকার বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা সৈয়দ মাশুক হাসান। শুক্রবার বিশ্ব নাট্য দিবস উপলক্ষে শব্দ থিয়েটার যশোরের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রদর্শিত হয় বিখ্যাত ইংরেজ ঔপন্যাসিক মেরি শেলির সাড়া জাগানো উপন্যাস “ফ্রাঙ্কেনস্টাইন অব মডার্ন প্রমিথিউস” অবলম্বনে মঞ্চ নাটক ফ্রাঙ্কেনস্টাইন।
অনুভূতি প্রকাশ করে মাইকেল মধুসূদন কলেজের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী জাইমা জেরিন খান বলেন, ১০০ টাকা উসুল, সময়ও সার্থক। চমৎকার একটি নাটক দেখলাম। মঞ্চের আলো আঁধারিতে বিজ্ঞানের দর্পণে এক অনন্য ট্রাজেডি ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’।
নাটক শেষে শব্দ থিয়েটার যশোরের সাধারণ সম্পাদক ও ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ এর নির্দেশক মাস্উদ জামান বাংলার ভোরকে বলেন, শব্দ থিয়েটার তথা যশোরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ বিজ্ঞান কল্পকাহিনী ভিত্তিক প্রযোজনা ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’।
প্রযোজনা অধিকর্তা মোস্তাক আহমেদ পলাশ বলেন, শব্দ থিয়েটারের শিহরণ জাগানিয়া বৈজ্ঞানিক আখ্যান ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’। একজন তরুণ বিজ্ঞানী ভিক্টর ফ্রাঙ্কেনস্টাইন মৃতদেহের অংশ জোড়া দিয়ে একটি কৃত্রিম প্রাণ সৃষ্টি করেন। কিন্তু নিজের সৃষ্টি করা দানবের কদাকার রূপ দেখে তিনি ভয় পালিয়ে যান। পরিত্যক্ত ও অবহেলিত দানবটি প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ওঠে এবং ভিক্টরের প্রিয়জনদের হত্যা করতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত স্রষ্টা ও সৃষ্টির এই সংঘাত উভয়েরই করুণ পরিণতি ও ধ্বংস ডেকে আনে।
শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বসে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ উপভোগ করেন জেলা পরিষদ যশোরের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, বিখ্যাত বংশীবাদক মনিরুজ্জামান, নাট্য বক্তিত্ব মহিউদ্দিন লালু, ক্রীড়া সংগঠক সোহেল মাসুদ হাসান টিটোসহ অগণিত দর্শক।
