বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
সরকারি কোনো নির্দেশনা বা বরাদ্দ না আসতেই যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার কথা বলে নারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ছবি সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার গ্রামাঞ্চলে কয়েক সপ্তাহ ধরে এ কার্যক্রম চলার খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী এ তথ্য সংগ্রহে জড়িত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, সদ্য তোলা ছবি এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের বলা হচ্ছে, সরকার শিগগিরই ফ্যামিলি কার্ড দেবে এবং সেই কার্ডের জন্য এসব তথ্য প্রয়োজন।

দরাজহাট ইউনিয়নের কড়াইতলা গ্রামের কয়েকজন নারী জানান, স্থানীয় এক বিএনপি নেতা তাদের বাড়িতে গিয়ে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে এনআইডির ফটোকপি ও ছবি সংগ্রহ করেন।

বন্দবিলা ইউনিয়নের পার্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা শেফালী বেগম বলেন, স্থানীয় বিএনপির এক নেতা আমাদের জানান, শিগগিরই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এজন্য আইডি কার্ডের ফটোকপি, এক কপি ছবি ও মোবাইল নম্বর দিতে বলেন। তার কথামতো আমিসহ এলাকার অনেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়েছি।’

পৌর এলাকার একাধিক বাসিন্দাও অভিযোগ করেন, স্থানীয় কৃষক দলের এক নেতা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের এনআইডির ফটোকপি, ছবি ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামছুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। যদি কেউ দলের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, “বাঘারপাড়া উপজেলায় এখনো ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া গেলে সরকারি নির্দেশনা ও নীতিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “কোনো অসাধু চক্র যদি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত বা প্রতারণার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন বা প্রলোভনে পা না দেওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”

সরকারি কোনো ঘোষণা বা কার্যক্রম শুরুর আগেই ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল বলছে, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি ও মোবাইল নম্বরের মতো সংবেদনশীল তথ্য অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকায় বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।

Share.
Exit mobile version