বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্ব পালনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্টেশন ইনচার্জ মাসে গড়ে ১২ দিন অফিস করেন, আরেক স্টেশন মাস্টার সরকারি টেলিফোন সেট বাসায় নিয়ে সেখান থেকেই ট্রেন পরিচালনা করেন—এমন অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও পূর্ণ বেতন উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ও রেলওয়ের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরসংলগ্ন বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ইনচার্জ আয়নাল হাসান বিশ্বাস মাসে গড়ে মাত্র ১২ দিন কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন। বাকি সময় বিভিন্ন অজুহাতে কর্মস্থলের বাইরে থাকলেও মাস শেষে পুরো বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দায়িত্বশীল কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে স্টেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এদিকে ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে গিয়ে আমদানিকারক এবং সিএন্ডএফ প্রতিনিধিদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্টেশনের আরেক স্টেশন মাস্টার পারভীনা খাতুনের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০১৭ সাল থেকে তিনি বেনাপোল স্টেশনে কর্মরত থাকলেও অধিকাংশ সময় সরকারি টেলিফোন সেট সঙ্গে নিয়ে বাসায় অবস্থান করেন। সেখান থেকেই ট্রেন পরিচালনাসংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১২ ঘণ্টার ডিউটির মধ্যে গড়ে মাত্র এক ঘণ্টার মতো স্টেশনে উপস্থিত থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে যাত্রী ও রেলওয়ের সম্পদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, সহকারী ইয়ার্ড ফোরম্যান মেহেদী হাসান তালুকদার ও মহিজুর রহমান মাসে প্রায় ১০ দিন কর্মস্থলে উপস্থিত থেকেও পুরো মাসের বেতন উত্তোলন করেন। এছাড়া পয়েন্টসম্যান সাহাদাত হোসেন নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও মাস শেষে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে পূর্ণ হাজিরা দেখান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, স্টেশনটিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অনিয়মের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ফলে একদিকে রেলওয়ের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে তাদের দাবি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্টেশন ইনচার্জ আয়নাল হাসান বিশ্বাস যুগান্তরকে বলেন, “স্টেশন মাস্টার হিসেবে আমরা তিনজন দায়িত্ব পালন করি। পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা করে ডিউটি করি। একজনের দায়িত্ব শেষ হলে অন্যজন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্বে অবহেলা বা চাকরিতে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
স্টেশন মাস্টার পারভীনা খাতুন বলেন, “স্টেশনের সামনেই আমার বাসা। ছোট সন্তান থাকায় মাঝে মধ্যে বাসায় যাওয়া-আসা করি। তবে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়।”
