বাংলার ভোর প্রতিবেদক

‘বাজারে এসে এখন চিন্তা করতে হয়, কোন জিনিসটা কম কিনলে চলবে। আগে পরিবারের জন্য কয়েক ধরনের সবজি কিনতে পারতাম, এখন খরচের কারণে অনেক কিছুই কমিয়ে দিয়েছি। রোজ কোনও না কোনও সবজি, মাছ, মাংস, ডিমের দাম বাড়ছে। আয়ের সাথে ব্যয়ের সংকুলান করতে পারছি না। শুক্রবার যশোরের ঘোপ বউ বাজারে বাজার করতে আসা মঞ্জুয়ারা ময়না নামে এক নারী আক্ষেপ করে দৈনিক ‘বাংলার ভোর’কে এসব কথা বলেন।

আবুল হাসান, ভুট্টা খান, সালেহা বেগম, ডিনাল হাসানসহ আরো কয়েকজন ক্রেতা একই সুরে জানান, ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের বাজার। আয় বাড়েনি কিন্তু প্রতিদিন কোনও না কোনও পণ্যের দাম বাড়ছে। সীমিত আয়ের মানুষ হিসেবে সংসারের সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

শুক্রবার সকালে ঘোপ বউ বাজার ও হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোড বড়বাজার ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। ভোজ্যতেল, ডাল, মুরগি, মাছের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে ডিমের দাম।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অধিকাংশ ব্যবসায়ী মুখে কুলুপ আঁটেন। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ দায় এড়াতে বলেন, আমরা বাজারের নিয়ন্ত্রক নই। যখন যেমন, তখন তেমন কিনি আর বিক্রি করি। আবার কেউ বলছেন, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পর থেকে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হতে শুরু করেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে বেগুন মানভেদে কেজি প্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাকরোল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা, পেঁপে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সজনে ১৭০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, ফুলকপি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা, ধুন্দল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, উচ্ছে ৫০ টাকা, কাঁচা কলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা,

শষা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচা আম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, এঁচোড় ৪০ টাকা, ঢেরস ৩০ থেকে ৫০ টাকা, পুঁইশাক ২০ থেকে ৩০ টাকা, ডাটা ৩০ টাকা, সবুজ শাক ৪০ টাকা, মুলো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বিটরুট ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ধনেপাতা ২০০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া পিস হিসেবে চাল কুমড়ো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা ও কাগজী লেবু হালি প্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে।

মুরগি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহের মতোই ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৩০-৩৫০ টাকা, দেশি মুরগি ৫০০-৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে রুই মাছ ৩০০-৩৮০ টাকা, টেংরা ৪০০-৫৬০, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, মৃগেল ২২০-২৫০ টাকা, পাঙাশ ১৫০-২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৫০, কাতল ৩০০-৫০০ টাকা, বাটা ১৮০-২৪০ টাকা, শিং ৩০০-৪০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৮০-২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে গরু ও খাসির মাংসের দর ঈদুল ফিতরের আগের বর্ধিত দরই বজায় রেখেছে। গরুর মাংস প্রতিকেজি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা হিরণ জানান, সবজির দাম বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। তার ওপর গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কৃষকের সবজি নষ্ট হয়েছে এবং অনেক সবজির মৌসুম শেষ দিকে হওয়ায় সরবরাহ কম। আমরা আগে যে সবজি ২০ কেজি আনতাম, এখন দাম বেশি হওয়ায় ১০ কেজি করে আনছি। কারণ ক্রেতারা এখন ১ কেজির জায়গায় আধা কেজি করে কিনছেন।

অপর বিক্রেতা করিম বলেন, বৃষ্টি আর পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। বেশি দামে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে কম লাভে। দাম বাড়ার কারণে ক্রেতার সংখ্যাও আগের তুলনায় কমে গেছে। অনেকেই এখন প্রয়োজনের তুলনায় কম সবজি কিনছেন।

তবে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, বাজারে নতুন সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম আবার কিছুটা কমে আসতে পারে। সে পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কাটবে উর্ধমূল্যের এ বাজার দর।

Share.
Exit mobile version