বাংলার ভোর প্রতিবেদক
উদীচী হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতাকে রাষ্ট্রের একটি বড় দুর্বলতা বলে উল্লেখ করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই দেশে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো শক্তি সঞ্চয় করেছে। শুরুতেই যদি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন করা যেত, তাহলে পরবর্তী সময়ে জঙ্গিবাদ এত ভয়াবহ রূপ নিতে পারত না।

শুক্রবার বেলা ১১টায় যশোর শহরের ঈদগাহ মোড়ে আয়োজিত প্রতিবাদী মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী-এর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনে বোমা হামলার ২৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

‘আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে’ শিরোনামে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উদীচী যশোর জেলা সংসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই যুগেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করা যায়নি। তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু, চাঁদের হাট যশোরের সভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল ও অধ্যক্ষ মোস্তাক হোসেন শিম্বা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উদীচী জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব এবং সেই রাতের হামলায় পা হারানো সাংস্কৃতিক কর্মী সুকান্ত দাস।

এদিকে, সন্ধ্যা ৭ টাই বোমা হামলায় নিহত শহিদদের স্মৃতির প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোসহ দ্রুত বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল করা হয়।

উল্লেখ্য, উদীচী বোমা হামলা ঘটে ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ গভীর রাতে যশোর টাউন হল মাঠে। সেদিন উদীচীর সম্মেলনে যখন হাজারো মানুষ বাউল গানের সুরে মগ্ন, তখন মঞ্চের নিচে রাখা বোমার বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। দুই দফা বিস্ফোরণে মুহূর্তেই অনুষ্ঠানস্থল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ওই নৃশংস হামলায় ১০ জন নিহত হন এবং আহত হন দেড় শতাধিক সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ।

Share.
Exit mobile version