বাংলার ভোর প্রতিবেদক
সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেনের নোংরা পানি উপচে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে যশোর উপশহরের ই ব্লক এলাকা। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। ছড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগ। গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের দাবি বরাদ্দ না থাকায় থমকে আছে ড্রেনেজ সংস্কার কাজ।

যশোর উপশহরের ই ব্লকের অধিকাংশ রাস্তাগুলো পানিতে তলিয়ে আছে। ভঙ্গুর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে একটু বৃষ্টিতেই ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি উপচে পড়ছে সড়কে, ঢুকে পড়ছে মানুষের বাসাবাড়িতে। দূষিত পানির কারণে চুলকানিসহ নানা ধরনের চর্ম ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যাতায়াত। এ সমস্যা দুই এক সপ্তাহের না, মাসের পর মাস চলছে এ জলাবদ্ধতা।

জলাবদ্ধতার এই অভিশাপ থেকে রেহাই পায়নি স্থানীয় উপশহর স্কুলটিও। স্কুলের মাঠ এখন পানির নিচে।

নোংরা পানি মাড়িয়েই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। শুধু তাই নয়, ড্রেনের পচা পানির তীব্র দুর্গন্ধে ক্লাসরুমে বসে ক্লাস করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে তাদের জন্য।

স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব হাসান বলেন, আমাদের উপশহর ই ব্লকের ড্রেন ব্যবস্থা অনেক খারাপ। ড্রেনে পানি যাচ্ছে না, যত ময়লা-আবর্জনা সব ড্রেনে। ড্রেনের পানিতে রাস্তাঘাট সব ডুবে গেছে। মানুষ যাতায়াত করতে পারছে না, রাস্তা ভেঙে গেছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এই নোংরা পানিতে মানুষজন চুলকানিসহ অনেক ধরনের রোগবালাই ছড়াচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, নোংরা পানির কারণে মানুষজন বাসা থেকে যে ওজু করে নামাজ পড়তেও যেতে পারছেন না। পাশাপাশি নোংরা পানির কারণে দুর্গন্ধ ও মশা বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, পানি নিস্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকার কারণে প্রতিটা রাস্তা ডুবে যাচ্ছে। অনেক সময় বাড়ির ভেতরেও পানি ঢুকে যাচ্ছে। বাচ্চারা রাস্তায় নামতে পারছে না, আসা-যাওয়ায় খুব কষ্ট হচ্ছে। আমরা দুই শতাধিক পরিবার ভোগান্তিতে আছি। আমরা চাই সরকার ভৈরব নদের সাথে একটা সংযোগ দিয়ে পানিটা নামাবার ব্যবস্থা করে দিক।

কামাল হোসেন নামে অপর একজন বলেন, দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর ধরে আমরা এই পানির সাথে যুদ্ধ করছি। আমাদের এখানে হাউজিং স্টেট থেকে একটা ড্রেন তৈরি করে দেয়া হয়েছে, যে ড্রেন দিয়ে নদীতে পানি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা নদীতে যায় না। উল্টো আমাদের এই এলাকার ভেতরেই সব জায়গায়, বিশেষ করে স্কুল মাঠসহ আশপাশের রাস্তায় জমে থাকছে। আমরা ১২ মাসই পানিতে তলিয়ে থাকি। আমাদের বাচ্চারা স্কুলে আসতে পারে না। বয়োজ্যেষ্ঠরা মুরুব্বিরা মসজিদে যেতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় একটা কমপ্লেনের জায়গা হলো উপশহর হাউজিং স্টেট। কিন্তু তারা কোনো দেখভালও করে না। আমাদের দাবি ড্রেন ব্যবস্থাটার স্থায়ী সমাধান করে দেয়া হোক। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন রাস্তাঘাটে ঘুরতে পারে, খেলতে পারে, মাঠে যেন খেলাধুলা করতে পারে; আমাদের ড্রেনেজ ব্যবস্থাটা একটু সুন্দরভাবে করে দেয়া হোক।

উপশহর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল ইসলাম বলেন, আমরা টিফিনের সময় খেলাধুলা করি। মাঠে পানি জমে থাকায় সেটা করতে পারছি না। তারপরে ক্লাসে বসতে পারছি না দুর্গন্ধের জন্য। মাঠের পানিতে বল পড়লেও আনতে পারছি না। পানিতে নামলেই গায়ে চুলকানি, অ্যালার্জি দেখা দেয়।

নাজমা খাতুন নামে অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা যখন বিদ্যালয়ে আসছি, তখন অনেকেই তলিয়ে যাওয়া ভাঙ্গা রাস্তার কারণে পড়ে যায়। এতে পানি গায়ে লেগে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এর কারণে পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়া জমে থাকা পানির দুর্গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়ি। এতেও আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঈন উদ্দিন বলেন, মূলত উপশহর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাটা অত্যন্ত খারাপ।

এই ড্রেনের যে মাথা, সেই মাথাগুলো নদীতে পৌঁছায়নি, যে কারণে এই পানিটা নদীতে না যেয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন নিম্ন অঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। সেই পানিটা আমাদের স্কুলের মাঠে এসে আমাদের ছেলেমেয়েদের ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই পানিটায় অনেক দুর্গন্ধ, আমাদের স্কুলের ছেলেমেয়েরা ক্লাসের রুমেও বসতে পারছে না দুর্গন্ধের কারণে। আমরা এ দুর্ভোগের সমাধান চাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ যশোর অফিসের উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহমেদ সাকিব বলেন, জলাবদ্ধতার বিষয়টা আমরা জানি। কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই। আমরা ২০১৮ সালে সরকারি অর্থায়নে একটা প্রজেক্ট নিয়েছিলাম। তখন আমরা ১৯ কিলোমিটারের মতো রাস্তা আর ও কিছু ড্রেন করছি। এখন আমাদের প্রজেক্টগুলো হয় নিজস্ব অর্থায়নে।

ফলে নিজস্ব অর্থায়নে এ ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করার সুযোগ কম। কারণ আমাদের একটা প্রজেক্ট নিলে প্রজেক্ট পাস করার আগে দেখাতে হয় কি পরিমাণ রিটার্ন আসবে। যদি এখান থেকে রিটার্ন না আসে তাহলে কর্তৃপক্ষ সেই প্রজেক্টটা অনুমোদন করে না।

মোদ্দাকথা নিজেদের টাকায় ড্রেন, রাস্তাঘাট করার সুযোগ নেই। যদি সরকারি অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায় তাহলে এ কাজ করা সম্ভব হবে। আর না হলে উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ তারা করবে।

Share.
Exit mobile version