কোটচাঁদপুর সংবাদদাতা
ঈদকে সামনে রেখে দিন গুনছিলেন বিধবা আরিছন বেগম, কখন আসবে ভাতার টাকা আর করবেন ঈদের বাজার, করবেন ঈদ। সারাদিন অন্যের বাড়িতে কাজ করলেও ভাতার টাকা দিয়েই চলে তার সংসার, সেই টাকা না পেয়ে ঈদ করা হয়ে ওঠেনি বাজেবামনদহ গ্রামের আরিছনের।

তিনি জানান ঈদের আগে টাকা পাননি এর আগে এমন কোনদিন হয়নি। সলেমানপুর গ্রামের বাসিন্দা নজির কিছুটা স্বস্তি পান মাসে সরকারি ভাতার ৭৫০ টাকা হাতে এলে। এবার ঈদুল ফিতরের আগে সেই টাকা পাননি তিনিও। আরিছন নজিরদের মতোই একই অবস্থা উপজেলার ১৩ হাজার ৫৫৫ জন ভাতাভোগীর। এদের বেশির ভাগই ভাতার টাকার ওপর নির্ভরশীল।

সেই টাকা না পাওয়ায় তারা ঈদের খুশি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। নজির বলছিলেন, ঈদের আগেই প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা পাবেন বলে আশা করেছিলেন। টাকা পেলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঈদটা ভালোভাবে করবেন বলেও স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু ঈদের আগে টাকা না পাওয়ায় তাদের ঈদের স্বপ্নও মুছে যায়।

উপজেলা তালসার গ্রামের ঘাটপাড়ার বাসিন্দা আমেনা খাতুনের বয়স ৯০ বছর। চার ছেলে ও তিন মেয়ে থাকলেও তাদের কারও সংসারেই স্বচ্ছলতা নেই। ভাতার ওপর নির্ভর করে তাকে চলতে হয়। ওই বৃদ্ধা ভেবেছিলেন, ভাতা পেলে কিছু টাকা দিয়ে ওষুধ কিনবেন। বাকি টাকা দিয়ে ঈদের জন্য মাংস কিনবেন। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বশির আহম্মেদের দেয়া তথ্যমতে, কোটচাঁদপুরে ১৩ হাজার ৫৫৫ জন ভাতাভোগীর মধ্যে ছয় হাজার ২০৬ জন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা আসে দুই হাজার ৯৭০ জনের নামে। আর প্রতিবন্ধী ভাতা পান চার হাজার ৩৮৯ জন। ঈদের আগে তাদের তিন মাসের ভাতা পাওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী ৩ মার্চ টাকা সাবমিট করা হয়। কেন যে শেষ কর্মদিবসেও টাকাটা ভাতাভোগীরা পাননি তা তিনিও বুঝতে পারেননি।

এর জন্য দায় কার-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দায়ী হলে সমাজসেবা অধিদপ্তর দায়ী হবে। কারণ, আমরা তো সময় মতো ভাতা সাবমিট করেছিলাম। ভাতাভোগীরা টাকা না পাওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান বলেন, বিষয়টি দেখে উপজেলা সমাজসেবা অফিস। টাকা যদি পাওয়ার কথা থাকে, তাহলে আজ-কাল না পেলে ঈদের পরে পাবেন। না পাওয়ার কোনো সুযোগ নাই।

Share.
Exit mobile version