বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ২০৪২টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে চাঁচড়া ভাতুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি চাঁদপুর জেলা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ল্যাপটপের বাটন প্রেসের মাধ্যমে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা এনএসআই কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক আবু তাহের মো. পারভেজ, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রতিকীভাবে ১০টি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। কার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন কুলসুম খাতুন, লাকি খাতুন, অর্পনা রায়, জোহরা বেগম, আয়শা বেগম, শিরিন খান, রীতা রানী মজুমদার, শাহানা সুলতানা, হালিমা বেগম ও চন্দনা রানী বিশ্বাস।
বাকি পরিবারগুলোর হাতে পর্যায়ক্রমে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে ২০৪২টি পরিবারের প্রত্যেকের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাঠানো হয়েছে।
ভার্চুয়াল বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছে। ইতোমধ্যে সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেয়া হবে এবং ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি একটি মহল রাজনীতির নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপি জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে যে সকল প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আগামীতে সকল প্রতিশ্রুতি আস্তে আস্তে বাস্তবায়ন করব।
তিনি আরও বলেন, আমরা যারা বিএনপি করি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল করি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দল করেছি, আমরা সবাই বলি জনগণই হচ্ছে আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। আপনাদের শক্তিই আমাদের শক্তি। আপনারা যতক্ষণ আমাদের পাশে থাকবেন, যতক্ষণ সমর্থন থাকবে, আমাদের দেশ গড়ার কাজ ইনশাআল্লাহ চলতে থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আজ আমাদের অত্যন্ত আনন্দের দিন। নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে দেয়া আমাদের সবচেয়ে বড় ওয়াদাটি আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। আজ ২০৪২ জন মা-বোন ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আড়াই হাজার টাকা করে পাচ্ছেন; এটি শুধু তাদের জন্যই আনন্দের বার্তা বয়ে আনেনি, আমরা যারা রাজনৈতিক কর্মী, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি করি, আমরা আমাদের কথা রাখতে পেরেছি বলে আমরাও অত্যন্ত আনন্দিত।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদের মধ্যেই যশোর সদর উপজেলার ১৩৫ টি ওয়ার্ড এবং যশোর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচিত নারীরা সরসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন, যা তাদের পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহে গুরুত¦পূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা। তারা জানান, এই সহায়তা তাদের সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, চিকিৎসা ও পারিবারিক ব্যয় মেটাতে সহায়ক হবে।
চাঁচড়া ইউনিয়নের উপকারভোগী রহিমা খাতুন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডাইবেটিসে আক্রান্ত। প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার টাকার ওষুধের খরচ হয়। এই সহায়তা তার চিকিৎসা ব্যয় সামলাতে অনেকটা উপকারে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
ফাতেমা নামে আরেক উপকারভোগী বলেন, বিগত সরকারের আমলে তিনি কখনও সহযোগিতা পান নি। এই প্রথম তারেক রহমান সরকারের আমলে সহযোগিতা পেয়ে সন্তোষ্টি প্রকাশ করেছেন তিনি।
একই এলাকার স্মৃতি বর্মণ বলেন, প্রতি মাসে ২৫শ’ করে যে টাকাটা পাবো তা সংসারের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারবো।
আরেক গৃহবধূ বিথীকা বিশ্বাস ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পেয়ে বলেন, এই টাকা একমাত্র ছেলে রাজেশ বিশ্বাসের লেখাপড়ার কাজে ব্যয় করবো। টাকার অভাবে ছেলেকে এতদিন ভালো কোন জায়গায় কোচিং করাতে পারিনি। এখন থেকে ছেলেকে ভালো জায়গায় কোচিং করতে পারবে।
চাঁচড়ার মধ্যপাড়ার বাসিন্দা কোহিনূর বেগম বলেন, আমি ডায়াবেটিসের রোগী। প্রতি মাসে আমার আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার ওষুধ লাগে। স্বামীর অভাবের সংসারে নিত্যদিনের খরচ মেটাতে পারবো।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ।
