বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোরের মণিরামপুরে বিয়ের মাধ্যমে প্রতারণা, অর্থ ও সোনার গহনা আত্মসাৎ এবং আপত্তিকর ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক নারী।
মঙ্গলবার মণিরামপুর বাজারের একজন নারী মেকআপ আর্টিস্ট ও একটি বিউটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বাদী হয়ে যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাবুবা শারমিন অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন-মণিরামপুর বাজারের বাসিন্দা জিএম ফাহিম আলমগীর, তার স্ত্রী শারমিন নাহার এবং উপজেলার কমলাপুর গ্রামের অসীম চক্রবর্তীর ছেলে অমিত চক্রবর্তী।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে পরিচয়ের পর ফাহিম আলমগীর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বাদীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে বিভিন্ন সময় কৌশলে এসি, ওভেন, সোনার গহনা ও নগদ অর্থসহ মূল্যবান বিভিন্ন সামগ্রী গ্রহণ করেন। এছাড়া ক্যাফে ব্যবসায় লোকসানের কথা বলে কয়েক দফায় আরও অর্থ ধার নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর কাবিনের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বাদীকে স্বামীর বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক একটি সমঝোতা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তাকে তালাক দেয়া হয়। এ সময় তার সোনার গহনাও ফেরত দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ফাহিম আলমগীর দুই লাখ টাকা আদায় করেন। এছাড়া বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে আরও ৪ লাখ ১২ হাজার ৯২৪ টাকা নেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ মে মণিরামপুর বাজারের পাট গবেষণা অফিসের সামনে পাওনা টাকা ও সোনার গহনা ফেরত চাইলে আসামিরা তা দিতে অস্বীকার করেন।
এ সময় তাকে মারধর, শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে বাদী আদালতের শরণাপন্ন হন।
