মণিরামপুর সংবাদদাতা
যশোরের মনিরামপুরে রুমানা ইয়াসমিন শিল্পী নামে এক স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে একের পর এক পরকীয়া প্রেমে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তার এ পরকীয়ার জেরে ইতিমধ্যে নিজের সংসার ভেঙ্গে আরো দুই যুবকের সংসার ভাঙ্গার উপক্রম হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এলাকার অভিভাবকরা জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নে একটি রাজনৈতিক দলের আহ্বায়ক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের স্ত্রী ইয়াসমিন শিল্পী। তিনি বিয়ের পর ২০০৩ সালে সহকারী শিক্ষিকার চাকরি পেয়ে যোগদান করেন উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তাদের সুখের সংসারে দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ছেলে যশোরের একটি কলেজের শিক্ষার্থী।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে ইতিপূর্বে অপর এক শিক্ষকের সাথে শিল্পী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়লে ওই শিক্ষককে জয়পুরে বদলি করা হয়। শিল্পীর স্বামী অভিযোগ করেন, সম্মানের কথা ভেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেয়েসহ পরিবারের লোকজন শিল্পীকে সংশোধন হবার চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়নি। বরং দিনদিন সে আরো বেপরোয়া ও উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে ওই শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করা হলেও শিল্পী তার সাথে পরকীয়া সম্পর্ক অব্যাহত রাখে। এ নিয়ে ওই শিক্ষকের পরিবারেও চরম অশান্তি শুরু হয়েছে।

উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলি হোসেন জানান, বিষয়টি এলাকা ছাড়াও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বিরূপ প্রতিক্রীয়ার সৃষ্টি হয়। শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের সময় অধিকাংশ সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়েও অভিভাবকরা শিল্পীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তার কাছে একাধিক অভিযোগ করেন। কিন্তু এ ব্যাপারে তাকে সতর্ক করা হলেও কোন প্রতিকার হয়নি। ফলে অভিভাবকরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

শিল্পীর স্বামী বলেন, স্ত্রীকে বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনতে তার শর্ত মোতাবেক আমি রাজনৈতিক দলের ইউনিয়ন আহ্বায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতি না করার ঘোষণা দিয়েও কোন লাভ হয়নি। বরং পদত্যাগ করার পর পরই গতবছর শিল্পী তাকে (স্বামী) ডিভোর্স দিয়ে যশোরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। শিল্পীর সাবেক স্বামী বলেন, এ ধরনের একজন উচ্ছৃঙ্খল ও বেপরোয়া মহিলার বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। আর তা না হলে তার অতৈনিক খপ্পরে পড়ে আরো অনেক যুবকের সংসার ভেঙ্গে যাবে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিল্পী প্রথম প্রেমিকের পাশাপাশি সাতনল এলাকায় অন্য এক যুবকের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এমনকি ওই যুবকের সাথে তোলা আপত্তিকর সব ছবি একপর্যায়ে ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ওই যুবকের সংসারেও দেখা দেয় চরম অশান্তি। এর মধ্যে গত ২৫ মে যশোরের একটি কলেজের পাশে আগের ওই শিক্ষক প্রেমিকের সাথে ঘোরাঘুরি করার সময় ওই প্রেমিকের স্ত্রী ও ছেলে শিল্পীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। অবশ্য এ সময় ওই প্রেমিক শিক্ষক সেখান থেকে পালিয়ে যান।

এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে এলাকার রবিউল ইসলাম, বাবলুর রহমান, মনোয়ার হোসেন, শফিয়ার রহমান, হাবিবুর রহমান, বাহারুল ইসলামসহ শতাধিক ব্যক্তি উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর ২০ ও ২১ মে লিখিত অভিযোগ করেন। উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ও উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি শামছুল আলম জানান, বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে সহকারী শিক্ষিকা রুমানা ইয়াসমিন শিল্পীকে জনরোষ থেকে রক্ষা করতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ২০ মে উপজেলার নাদড়া-কালারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন।

কিন্তু এলাকাবাসী শিল্পীকে ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করতে বাঁধা দেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মুত্তালিব আলম জানান, শিল্পীসহ দুজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আফজাল উর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ রোববার থেকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে ওই কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তি আইনগত ব্যবস্থা নিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর সুপারিশ করা হবে।

তবে এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষিকা রুসানা ইয়াসমিন শিল্পীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Share.
Exit mobile version