মহেশপুর সংবাদদাতা

ঝিনাইদহ মহেশপুরে সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে ফসলি ক্ষেত বিনষ্টের ঘটনা। দুবৃর্ত্তরা রাতের আঁধারে একের পর এক ফসলের ক্ষেত নষ্ট করছে। ধারদেনার মাধ্যমে ফসল চাষ করার পর ভরা ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় কৃষকেরা একেবারে পথে বসে যাচ্ছেন। রাতের আঁধারে এমন কাজ করায় ক্ষতিগ্রস্থরা নির্দিষ্টভাবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করতে পারছেন না। ফলে এমন ক্ষতিকর কাজ করেও দুর্বৃত্তরা থাকছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এদিকে প্রায়ই ক্ষেত নষ্টের ঘটনা ঘটায় সবজি ক্ষেতের মালিকেরা রয়েছেন আতঙ্কে। প্রশাসন বলছে, ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক, গোষ্টিগত বিরোধের জেরে এমনটি হয়ে থাকতে পারে।

শনিবার রাতের কোন এক সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে মহেশপুর পৌর এলাকার বোয়ালিয়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক আশাদুল ইসলামে বোয়ালিয়া মাঠের ১৩২ শতক জমিতে চাষ করা ধরন্ত ৫০০ লাউ ও কুমড়া গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। চাষ করা ধরন্ত ৫০০ লাউ ও চালকুমড়া গাছকেটে ফেলায় পথে বসেছেন দরিদ্র কৃষক আশাদুল ইসলাম। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ওই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।

সরেজমিনে দেখা যায়, বোয়ালিয়া মাঠে কৃষক আসাদুল ইসলামের ১৩২ শতক লাউ ও চালকুমড়ায় ক্ষেতের ৫০০ গাছের প্রতিটির ডগায় ডগায় কচি লাউ ঝুলছে। কিছুদিন পর এই সব লাউ-কুমড়া বাজারে বিক্রি হতো কয়েক লাখ টাকায়। কিন্তু পূর্ব শত্রুতার জেরে ধরন্ত গাছগুলো কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। সূর্যের আলো ফোটার সাথে সাথে গাছগুলো সব শুকিয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী কৃষক আসাদুল ইসলাম বলেন, জমি লিজ নিয়ে ধারদেনা করে ১৩২ শতক জমিতে লাউ ও চালকুমড়া চাষ করেছি। চাষে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরিশ্রম আর পরিচর্জার মাধ্যমে প্রতিটি গাছের ডগায় ডগায় লাউ ও কুমড়া ধরতে শুরু করেছে। বাজারে বিক্রি করতে পারলে খরচ উঠে লাভ হতো আরও কয়েক লাখ। লাউ বাজারে বিক্রি করে জমির লিজের টাকা শোধ করবো বলে ভেবেছিলাম। রাতের আঁধারে আমার জমির সব গাছ কেটে ফেলেছে কিভাবে জমির টাকা পরিশোধ করবো বুঝতেছি না। আমার সঙ্গে ওভাবে কারো শত্রুতা নেই। কারা আমার পেটে লাথি মারলো বলে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন তিনি।

স্থানীয় কৃষক মান্নান বলেন, সমাজে চলতে গেলে মানুষের সঙ্গে মানুষের মনোমালিন্য হতে পারে। সেজন্য এভাবে জমির ফসল কেটে দেবে, তা মেনে নেয়া যায়না।

স্থানীয় কৃষক ইমরান হোসেন বলেন, কৃষকের ফসল নষ্ট করা শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি নয় এটি সমাজের জন্যও ক্ষতিকর। এ ধরনের ঘটনার সঠিক তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা দরকার।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন মুনিরা জানান, বোয়ালিয়া মাঠে জমির ধরন্ত লাউ ও কুমড়া গাছ কেটে ফেলার ব্যাপরটি আমি জানতাম না। আপনার মাধ্যমে শুনলাম। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি।

এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

Share.
Exit mobile version