মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা
মহেশপুরে প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গিয়ে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এসময় মোবাইলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে রাখেন অভিযুক্তরা। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে উপজেলার কাজিরবেড় ইউনিয়নের বাগদিয়ার আইট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাতপোতা মডেল একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্রী।
এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার ভুক্তভোগীর ফুফু ফাতেমা খাতুন বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে মহেশপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। মামলার দিন রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে প্রধান অভিযুক্ত হযরত আলীকে গ্রেফতার করা হয়।
আটককৃতের তথ্য অনুযায়ী ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার বিকালে ওই ছাত্রীর প্রেমিক সামন্তা চারাতলাপাড়ার আনোয়ার হোসেনের ছেলে আসের আলী রাজুকে আটক করে পুলিশ। মামলার অন্য আসামীরা হলেন, বাগদিয়ার আইট গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে শাওন, ওই গ্রামের দিনু মিয়ার ছেলে নয়ন ও ফরিদ মিয়ার ছেলে আমিন।
মামলায় বাদী জানিয়েছেন, পড়াশোনা করাকালিন আমার ভাইয়ের মেয়ের সাথে রাজু নামের একটি ছেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনারদিন রাতে বাড়ির পাশের রাস্তার উপর প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গেলে আসামী হযরত আলী ও শাওন প্রেমিককে মারধর করে তাড়িয়ে দেন।
এসময় তারা আমার ভাতিজির মুখ চেঁপে ধরে পাশ্ববর্তী মাঠের ঘাসখেতের ভিতরে নিয়ে যান। ঘটনাস্থলে আগে থেকে অপর আসামী নয়ন ও আমিন অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে হযরত আলী, শাওন ও নয়ন মিলে ভয়র্ভীতি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এসময় অপর আসামী আমিন ধর্ষণের ঘটনা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পরপরই রাতে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত হযরত আলীকে আটক হয়। পরবর্তীতে আটককৃতের তথ্য অনুযায়ী ধর্ষণে জড়িত থাকার অভিযোগে নির্যাতিত স্কুলছাত্রীর প্রেমিক রাজুকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামীদের আটকের চেষ্টা চলছে।

