মহেশপুর সংবাদদাতা
মহেশপুর সীমান্তের ইছামিত নদী থেকে রতিকান্ত জয়ধর নামে আরো এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রতিকান্ত গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া থানার পলোটানা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ জয়ধরের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।
এর আগে গত সোমবার পলিয়ানপুর সীমান্তের ওই নদীর পাড় থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা গেছে, কচুরিপানার নিচে থাকা মরদেহটি পঁচে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। এসময় উৎসুক জনতা দুর্গন্ধের কারণ খুজতে গেলে কচুরিপানার নিচে মরদেহের সন্ধান পন। পরে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ছোট ভাই রনজিত জয়ধর জানান, আমার ভাই রতিকান্ত জয়ধর গত ৯ এপ্রিল মাদারীপুর জেলার ভেন্নাবাড়ী গ্রামের মামা বাড়িতে বেড়াতে যান। পরে গত ১২ এপ্রিল রোববার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
বৃহস্পতিবার খবর পেয়ে ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করি। ভাইয়ের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুত্বর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সীমান্ত পারাপারের সময় ভারতীয় বিএসএফ অথবা অজ্ঞাত কোন ব্যক্তিরা গুলি করে হত্যার পর নদীর কটুরিপানার নিচে মরদেহ গুম করে রেখেছে। আমার ভাইয়ের স্ত্রী ২ ছেলে ও ২ মেয়ে নিয়ে ১৪/১৫ বছর ভারতে বসবাস করছিলেন। ভাইয়ের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি দালালের মাধ্যমে ভারতে যাওয়া চেষ্টা করছিলেন।
মহেশপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ওই ব্যক্তির শরীরে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সীমান্ত পারাপারকালে তাকে গুলি করে হত্যা করা হতে পারে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে পলিয়ানপুর সীমান্তের জিরো লাইন থেকে ৫০ মিটার দেশের অভ্যন্তরের ইছামতি নদীর পাড় থেকে অজ্ঞাত আরো এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এখন পর্যন্ত অজ্ঞাত উদ্ধার হওয়া মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত হয়নি।
