বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা এনাম সিদ্দিকী (৩০) এখন বিছানায় কাতরাচ্ছেন। জুলাই আন্দোলনে ঢাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দীর্ঘদিন চিকিৎসা দিতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে তার পরিবার। বর্তমানে টাকার অভাবে তার চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনের সময় ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন এনাম। গত ৪ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেয়ার সময় পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। গুলিটি তার মাথায় লাগে, এতে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।

প্রথমে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা হলেও আর্থিক সংকটের কারণে পরে তাকে যশোরে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি আর কখনো পুরোপুরি সুস্থ হবেন না; বাকি জীবন তাকে চিকিৎসার ওপরই নির্ভর করতে হবে।

এনাম সিদ্দিকী বলেন, প্রতি মাসে তার ওষুধের পেছনেই প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু সরকার থেকে যে আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে, তা দিয়ে অর্ধেক খরচও মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এর সঙ্গে রয়েছে সংসারের ব্যয়। তার পরিবারে আছেন মা, স্ত্রী ও ৮ বছর বয়সী সন্তান।

তার স্ত্রী ইসরাত জাহান জানান, ইতোমধ্যে এনামের চিকিৎসায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এর বেশিরভাগই নিজেদের সম্পদ বিক্রি এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে জোগাড় করা হয়েছে। এখন ঋণের চাপ ও চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে তারা চরম সংকটে পড়েছেন।

তিনি আরও জানান, এনামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। মাঝে মধ্যেই তার মাথা থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং খিঁচুনি দেখা দিচ্ছে। সম্প্রতি খিঁচুনি বেড়ে যাওয়ায় তাকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। চিকিৎসকরাও এ সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে পারছেন না।

স্থানীয়রা জানান, আন্দোলনের সময় এনাম সামনের সারিতে থেকে অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমানে তার চিকিৎসা ও পরিবারের সহায়তায় সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

Share.
Exit mobile version