বাংলার ভোর প্রতিবেদক
মাদক আর জুয়ার নেশায় বুথ হয়ে পড়েছে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুরসহ আশপাশের এলাকা। পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা। সেই সাথে রয়েছে জুয়ার আসর। আর এতে ধ্বয়স হচ্ছে যুব সমাজ।
পাশাপাশি, বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মুরগি ঘুষ হিসেবে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মাদ কারবারী আর জুয়াড়িরদের সাথে রয়েছে দহরম-মহরম সম্পর্ক। আইসির সাথে সমাজ বিরোধীদের সম্পর্ক থাকায় কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছে না এসব কারবার। শুধু তাই নয়, আইসির অবৈধ কারবারের কারণে বেশ কিছু পুলিশ সদস্য নেহালপুর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা গ্রহণ করেন আইসি রেজাউল করিম।
ফলে এলাকায় মাদক ব্যবসা বেড়ে চলেছে। নেহালপুরসহ আশপাশের এলাকায় এখন মাদকে ছেঁয়ে গেছে। এখন মণিরামপুর ও অভয়নগরের বিভিন্ন এলাকার মাদক সেবীদের নেহালপুরে চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। মাদক ব্যবসার কারণে এলাকার যুব-ছাত্র সমাজ নষ্ট হচ্ছে। মাদক সেবাীদের কারণে এলাকায় চুরি-ছিনতাই বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইন জুয়া (ক্যাসিনো) ও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসিক মাসোহারা নিয়ে তাদের অবাধে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দিচ্ছেন আইসি রেজাউল করিম।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গেল ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে লাগামহীন চাঁদাবাজি চালিয়েছেন আইসি রেজাউল করিম। এমনকি, ‘আকিজ গ্রুপ’ থেকে নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের জন্য দেওয়া ঈদ উপহার সামগ্রীও ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছ থেকেও হুমকি ও ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরমধ্যে কপালিয়া মৎস্য আড়ৎ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা ও মাছ নিয়ে এসেছিলেন। নেহালপুর ঈদ বাজারের নৌকা নাগরদোলা থেকে ৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে উপঢৌকন হিসেবে মাছ-মাংস সংগ্রহ করেছেন। তিনি ফাঁড়ির পুলিশ দিয়ে ব্যবসায়ীদের বাড়ি পাঠিয়ে এসব সংগ্রহ করেছেন। তার এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে পুলিশ সদস্যরা নেহালপুর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় নেহালপুর-কালীবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ক্যাম্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে চেয়ার ও এলইডি বাল্ব সংগ্রহ করে তা ব্যক্তিগত বাসায় ব্যবহার করছেন।
স্থানীয়রা জানান, আইসি রেজাউল করিম নেহালপুরে যোগদান করেই বিভিন্ন মাছের ঘের থেকে ক্যাম্পের নামে মাছ সংগ্রহ করে তা নিজ বাসায় নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এমনকি যে মাঠে কিম্বা যে ক্ষেতে ভালো সবজি হয়েছে, সেখান থেকে ওই কৃষককে ডেকে সেই সবজি নিজে বাড়ি নিয়ে যান। কৃষকদের টাকা না দিয়ে এভাবে সবজি নিয়ে আসেন আইসি। পাশাপাশি, বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মুরগি ঘুষ হিসেবে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এদিকে, এসব ঘটনায় ক্যাম্পের অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন সদস্য ‘পার্ট টু’ আবেদন করে অন্যত্র বদলি নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদের মধ্যে হানিফ খান, নাজমুল হাসান এবং অরুপ রতনের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে এবং তাদের অন্যত্র বদলীর অর্ডার হয়েছে। এছাড়াও ক্যাম্পের আরও চারজন পরবর্তীতে ‘পার্ট টু’ আবেদন করেছেন বলে জানান গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সব অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, নেহালপুরের কোথাও কোন মাদক ব্যবসায়ীর সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। অনলাইন জুয়াড়িদের তিনি চেনেন না।
পুলিশ সদস্যদের ‘পার্ট টু’ আবেদনের বিষয়ে বলেন, একক জন তিন-চার বছর ধরে একই স্থানে চাকরি করছে। একারণে তারা বদলি হয়ে চলে গেছেন।
ঈদ উপলক্ষে চাঁদাবাজির বিষয়ে বলেন, কারো কাছ থেকে হুমকি দিয়ে টাকা নিয়েছি, তাকে আমার কাছে নিয়ে আসেন। পরে তিনি এ প্রতিবেদককে নেহালপুরে চা পান করার আমন্ত্রণ জানান।

